হাবিপ্রবিতে গ্রীন ভয়েসের আত্মরক্ষা কৌশল ও আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন বিষয়ক ৭দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ

0
43

(দিনাজপুর২৪.কম) গ্রীন ভয়েসের আয়োজনে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭দিন ব্যাপী আত্মরক্ষা কৌশল ও আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন প্রশিক্ষণ-২০২২ এর উদ্বোধন হয়েছে সম্প্রতি । গত ১৯ নভেম্বর ২০২২ রোজ শনিবার বিকেলে এই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন হাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.এম.কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মো. মামুনুর রশিদ, প্রফেসর ড. ইমরান পারভেজ, প্রফেসর ড. বিকাশ চন্দ্র সরকার, ড. মো. রবিউল ইসলাম, মো. মিজানুর রহমান, গ্রীন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আলমগীর কবির, সোনার তরীর প্রতিষ্ঠাতা মনোবিজ্ঞনী ফারজানা ফাতেমা (রুমী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্রীন ভয়েসের হাবিপ্রবি শাখার উপদেষ্টা প্রফেসর রোজিনা ইয়াসমিন (লাকী)। ৭ দিনের কার্যক্রমে আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বিশিষ্ট প্রশিক্ষক জনাব মীর আব্দুল খালেক ও তার সহকারীবৃন্দ।

গ্রীন ভয়েস এর প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আলমগীর কবির বলেন, আজকে আমাদের আত্নরক্ষার কৌশল কেন জানতে হচ্ছে। আমরা যে সমাজে আছি তা বিবেচনা করলে গ্রীন ভয়েসের প্রশিক্ষনের মূল উদ্দেশ্য আমরা বুঝতে পারবো। তিনি সমাজে নারী-র ভুমিকা মা, বোন, মেয়ে থেকে শাশুড়ী সকল অবস্থানের কথা বলেছেন। একজন আত্মবিশ্বাসী নারীই পারেন একটি বলিষ্ঠ সমাজ গঠন করতে। সেশনে মনোবিজ্ঞানী ফারজানা ফাতেমা (রুমী) শুরুতেই সকলের নাম এবং নিজের সম্পর্কে একটি ইতিবাচক শব্দ দিয়ে সকলের পরিচয় জানতে চান। তিনি বলেন,আত্মবিশ্বাসী হতে নিজেকে ভালোবাসতে হবে, নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। তবে নিজেকে ভালোবাসা মানে স্বার্থপরতা নয়। ব্যাক্তিত্ব বিকাশের জন্য নেতিবাচক বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে নিজের চারপাশে একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে যেখানে আমরা নিজের ভালো-মন্দ দিক গুলো নিয়ে আলোচনা করে নিজেকে শুধরে নিবো। যে আমার সমালোচনা করে আমাকে শুধরে দেয় সেই আমার প্রকৃত বন্ধু। তিনি আরও বলেন,আমরা মন খারাপ হলেই এখন ডিপ্রেশন বলি, সেটা আসলে ডিপ্রেশন নয়। মন খারাপের কারণে কমপক্ষে ২ সপ্তাহ আমাদের নিয়মিত প্রাত্যহিক কাজগুলো যদি করতে না পারি তখন বুঝতে হবে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা দরকার। ডিপ্রেশন থেকে বাঁচতে হলে সমমনা বন্ধু রাখতে হবে। যাদের সাথে প্রাণ খুলে সব কথা বলা যায়। একটি চারাগাছের চারপাশে বাউন্ডারি দেয়ার মতো করে নিজের চারপাশেও শক্ত বাউন্ডারি দিতে হবে যেন সমস্যা আসলেই আমরা ভেংগে না পরি। আর এই বাউন্ডারি হতে পারে ভালো বন্ধু, বই পড়া, বাগান করা, মানব কল্যাণ মূলক সংগঠনে জড়িত থাকা। এক কথায় নিজেকে ভালো কাজে ব্যস্ত রাখা। যে কোনো সমস্যায় পারিবারিক সহায়তা যেনো সবার আগে থাকে সে দরজা খোলা রাখতে হবে। প্রয়োজনে অবশ্যই মনোবিজ্ঞানী এবং মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রযুক্তি নির্ভর সময় এখন তাই পৃথিবীটাকে জানার সুযোগ অনেক বেশি। তাই আমরা যেনো প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রয়োগ করে জীবনে এগিয়ে যেতে পারি সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অল্পতেই রেগে যাওয়া যাবে না। রাগের সময় ৩ টি বিষয় মানতে হবেঃ

১। নিজের ক্ষতি করব না।
২। অন্যের ক্ষতি করব না।
৩। কোন জিনিস নষ্ট করব না।
আত্মবিশ্বাসী হবার জন্য তিনি সবাইকে একটি ডীপ ব্রিদিং রিলাক্সেশন সেশনের মাধ্যমে তার কার্যক্রম শেষ
করেন। গ্রীন ভয়েস এর একটি অংঙ্গসংগঠন বহ্নিশিখা-র অংশ বলীয়ান নারীর প্রোগ্রাম । বহ্নিশিখার বলিয়ান নারীর ১৬ টি জেলায় এই প্রোগ্রাম টি করা হয়। বহ্নিশিখার প্রধান কাজ হলো নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা। বহ্নিশিখার রয়েছে ৭ টি বিভাগঃ ১। আলোকিত নারী। ২। বলিয়ান নারী। ৩। প্রযুক্তিপূর্ণতায় নারী। ৪। পরসেবায় নারী। ৫। সমাজবিদ্বুষী নারী। ৬। আত্ননির্ভশীলতায় নারী। ৭। ন্যায়পাল নারী

উত্তরবঙ্গের অন্যতম শক্তিশালী সবুজ টিম হলো দিনাজপুর সরকারি কলেজ। গ্রীন ভয়েস এর ১৪টি অঙ্গ
সংগঠনের একটি হলো দেখা হয় নাই যার উদ্যোগে ১৮ নভেম্বর, ২০২২ দিনাজপুরের সিংড়া ফরেস্টে একত্রিত হয় গ্রীন ভয়েস দিনাজপুর সরকারি কলেজ টিম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গ্রীন ভয়েস এর প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির ও উনার সহধর্মিণী লায়লা আরজু, গ্রীন ভয়েস দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার উপদেষ্টা ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আব্দুল মোমেন, দেশবরেণ্য মনোবিজ্ঞানী ও প্রতিষ্ঠাতা- সোনারতরী ফারজানা ফাতেমা (রুমী) ও গ্রীন ভয়েসের রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় সমন্বয়ক ফাহমিদা নাজনীন তিতলী। সকালবেলায় গ্রামবাংলার কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার – মুড়িমুড়কি, বাতাসা, মতিচুরের লাড্ডু, বিস্কুট দিয়ে শুরু হয় নাস্তা। তারপর সিংড়া ফরেস্টে প্রাচীন এক শালবনে আয়োজন ছিলো ফারজানা ফাতেমা (রুমী)-র মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেশন। দুপুরের খাওয়া শেষ করে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। গান, কবিতা দিয়ে মাতানো মহুর্তের পরেই আসে আসল চমক। গ্রীন ভয়েস নিয়ে আয়োজিত একটি নাটক। নাটকে অভিনয় করেছিলো গ্রীন ভয়েস দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখার সদস্যরা।

গ্রীন ভয়েস হলো বাংলাদেশের প্রথম পরিবেশ বাদী যুব সংগঠন। যা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যুবকদের নিয়ে প্রকৃতি, পরিবেশ, জীবন নিয়ে কাজ করে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের আনাচে কানাচে অর্থাৎ শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ুক গ্রীন ভয়েসের লাল সবুজ পতাকা। সকলে পরিবেশ সচেতন হোক এবং সকল সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুক। বহু রক্ত আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন করা আমাদর এ স্বাধীন স্বদেশ ভূমিকে পরিবেশ বান্ধব হিসাবে গড়ে তোলা এবং সকল অপশক্তির হাত থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষিত রাখার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাবে গ্রীন ভয়েসতাঁর আদর্শিক পথ ধরে। ২০০৫ সালে গ্রীন ভয়েস প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ এ পথ চলায় ৫ হাজার একটিভ ভলান্টিয়ার রয়েছে। -প্রেসরিলিজ

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here