হার্টে রিং বসানো হলেও ঝুঁকিতে রয়েছেন খালেদা জিয়া

0
88
(দিনাজপুর২৪.কম) মাঝে কিছুদিন মোটামুটি সুস্থ থাকার পর ফের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। হৃৎপিণ্ডে চিহ্নিত ব্লকে অপসারণ করে একটি রিং বসানো হয়েছে। সবমিলিয়ে বিএনপি প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেই রয়েছেন। এমন অবস্থায় তাকে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড।
এদিকে, বিএনপির তরফ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শুক্রবার রাত দশটার পর হঠাৎই ব্যথা ও অস্থিরতা বেড়ে যায় খালেদা জিয়ার। গুলশানের বাসভবনের কর্মকর্তারা দ্রুত চিকিৎসকদের খবর দেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন ও আল মামুন দুইজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়ে ফিরোজায় পৌঁছান। তখন ইসিজি, প্যাথলজিসহ কয়েকটি টেস্ট করেন। টেস্টে রেজাল্ট এবনরমাল আসায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। তবে খালেদা জিয়া সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে যেতে রাজি হননি। পরে লন্ডন থেকে মেডিকেল বোর্ডের সমন্বয়ক ডা. জোবাইদা রহমান বুঝিয়ে তাকে রাজি করান। রাত তিনটার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়৷ সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই শামিম ইস্কান্দারের ছেলে অভিক ইস্কান্দার। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চিকিৎসক জাহিদ হোসেন, আল মামুন, চেয়ারপারসনের দুই নিরাপত্তারক্ষী,স্টাফ রূপা ও গৃহপরিচারিকা ফাতেমা।
শনিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় সঙ্গে কথা হয় মেডিকেল বোর্ডের দুইজন সদস্যের। তার বিষয়গুলো নিশ্চিত করেন।
একজন জানান, খালেদা জিয়াকে হয়তো এবার দুয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হবে। কারণ তিনি ঝুঁকিতেই আছেন। সার্বক্ষণিক জরুরি ট্রিটমেন্টে রাখতে হবে। মেডিকেল বোর্ড তাই জানিয়েছে।
আরেকজন চিকিৎসক জানান, ঝুঁকিতে থাকায় খালেদা জিয়ার জন্য আইসিইউসহ যাবতীয় ব্যবস্থা ঠিক করে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলেই যাতে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রিটমেন্ট করা যায়৷ ইনসুলিন দিয়ে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ ঘুম পর্যাপ্ত না হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়ানো হচ্ছে৷ আর বাসা থেকে অত্যন্ত সর্তকতা অবলম্বন করে খাবার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে৷
এদিকে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার এনজিওগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে৷ আর তা করতে গিয়ে দেখা গেছে যে, খালেদা জিয়ার মেইন আর্টারিটায় ৯৯% ব্লক এবং সেটা চিকিৎসকরা সফলভাবে স্টেইট করেছেন, বেলুনিং করে ব্লক দূর করে সেখানে তারা স্টেইন বসিয়েছেন। ডাক্তাররা অত্যন্ত আশাবাদী যে, তার এই টিট্রমেন্টের ফলে তিনি আপাতত হার্টের যে সমস্যা সেটা থেকে সাময়িকভাবে রিলিফড হবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বহুবার নেত্রীর চিকিৎসার ব্যাপারে কথা বলেছি। দলের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য আমরা আন্দোলন করেছি, তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বাইরে পাঠানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, তার পরিবারের সদস্যরা একসময় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখাও করেছেন। কিন্তু এই সরকার কোনো কর্ণপাত করেনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আজ পর্যন্ত তার চিকিৎসার জন্য তাকে যে বিদেশে পাঠানো দরকার সে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়ে যে ব্যবস্থাটা বলেন সেটা সঠিক নয়। আজকে তার এই অসুস্থতায় প্রমাণিত হলো তাকে অবিলম্বে বিদেশে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাতে না পারলে তার জীবন হুমকির মুখে পড়বে এবং পড়েছেও বার বার। আমি সরকারকে বলবো, তার জীবন রক্ষার জন্য, তার স্বাস্থ্যের জন্য তাকে বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।
গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব জানান, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড বলেছেন যে, ম্যাডামের একটা মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তারপরে উনার হাসপাতালে থাকতে থাকতে আরেকটা উপসর্গ এসে যায় সেটা হচ্ছে সাফোকেশন, শ্বাস-কষ্টও শুরু হয়। তখন বোর্ড অতিদ্রুত এনজিওগ্রাম করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর দুপুর ১টায় খালেদা জিয়াকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। দেড় ঘণ্টা পর তাকে সিসিইউ‘র কেবিনে নিয়ে আসা হয়।
এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোমিন-উজ জামান ও অধ্যাপক সামস মনোয়ারও রয়েছেন।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে। বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা এবং তার হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেন বিশেষ চিকিৎসকরা।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ম্যাডামের হার্টের অসুখ। এটা লাইফ থ্রেটেনিং। এটা আজকে সাময়িকভাবে চিকিৎসকরা সমাধান দিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে তার যেসব অন্যান্য রোগ রয়েছে সেটার চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়, সেটার জন্য দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া দরকার।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর করোনার মহামারির মধ্যে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে থাকা অবস্থায় থেকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পান খালেদা জিয়া। এরপর একাধিকবার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় সরকার। মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় আছেন। এ সময়ের মধ্যে তিন দফায় প্রায় ৬ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। -অনলাইন ডেস্ক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here