১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড গণহত্যার সামিল : শেখ পরশ

0
13
(দিনাজপুর২৪.কম) পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড গণহত্যার সামিল বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। সেই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সোমবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল এবং অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ অনেকে।
রশ বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ পায়নি ৪ বছরের শিশু সুকান্ত বাবু, ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল ও আরিফ সেরনিয়াবাত। রক্ষা পায় নাই মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আমার মা আরজু মণি সেরনিয়াবাতসহ নিরীহ অবলা নারী সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। এই হত্যাকাণ্ড গণহত্যার সামিল। কারণ সেদিন নারী-শিশু নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড ছিল সুদূরপ্রসারী এক পরিকল্পিত।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতার সূর্য সম্পূর্ণরূপে উদিত হওয়ার আগেই আকস্মিকভাবে অস্তমিত করা হয়েছিল। নস্যাৎ করা হয়েছিল বাঙালির দুই শতাধিক বছরের স্বাধীনতার আকাঙ্খা। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শত্রুরা প্রতিশোধ নিয়েছিল বাঙালি জাতির উপর। এই হত্যাকাণ্ড ছিল ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীতাকারী দেশি-বিদেশী পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা কোন সাধারণ হত্যাকাণ্ড ছিল না। তাকে হত্যা করা হয়েছিল একাধিক অশুভ উদ্দেশ্য সাধণের লক্ষ্যে। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তারা বাংলাশেকে স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করা মেনে নিতে পারেনি। পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক সংবিধান প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের জন্য একটি ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রণয়ন মেনে নিতে পারেনি তারা। সর্বশেষে দক্ষিণ এশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো জাতীয়তাবাদী নেতার উত্থান এবং বিশ্ব নেতা হয়ে ওঠা তারা মেনে নিতে পারেনি।
যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, আগস্ট মাস শোকের মাস। বাঙালি জাতির জন্য একটি কলঙ্কের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ফজরের নাজামের জন্য মসজিদে মুয়াজ্জিন যখন আযান দেয়, মুসলমানরা যখন ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তখন বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য গুলি চালিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। তারা হত্যা করেছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব বাহিনীর প্রধান, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণিকে।
তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সরাসরি জড়িত। আগস্ট মাস বাংলার মানুষের জন্য দুঃখের মাস। আর জামাত-বিএনপি তথা কালনাগিনী খালেদা জিয়া ও তার কুলাঙ্গার সন্তান তারেকের জন্য আনন্দের মাস। কারণ তারা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এই ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় মানবতার নেত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। আবার ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট তারা সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল। এই আগস্ট মাসকে সামনে রেখে বিনা কারণে, বিনা উস্কানিতে ভোলায় পুলিশের উপর তারা হামলা চালিয়েছে। তারা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সন্ত্রাসী দেশ হিসেবে প্রমাণ করতে চায়। তারা আরেকটি ১৫ আগস্ট সৃষ্টি করতে চায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন, ডা. খালেদ শওকত আলী, মো. হাবিবুর রহমান পবন, মো. নবী নেওয়াজ, মো. এনামুল হক খান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোয়াদ্দার, তাজউদ্দিন আহমেদ, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহা: বদিউল আলম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. জহির উদ্দিন খসরু, মো. সোহেল পারভেজ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম মিল্টন, আন্তর্জািতক বিষয়ক সম্পাদক কাজী সারোয়ার হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মো. শামছুল আলম অনিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. বিপ্লব মুস্তাফিজ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ডা. মো. মহি উদ্দিন, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক শাহীন মালুম, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. হারিছ মিয়া শেখ সাগর, উপ-প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী, উপ-শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক কাজী খালিদ আল মাহমুদ টুকু, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. সফেদ আশফাক আকন্দ তুহিনসহ কেন্দ্রীয় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।  -নিউজ ডেস্ক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here