৮ দিনে ৯ জনকে অপহরণ, সন্দেহে রোহিঙ্গারা

0
59
-পুরনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার বড়ডেইল এলাকা থেকে গতকাল শুক্রবার আব্দুর রহমান (১৮) নামের এক যুবককে অপহরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে গত আট দিনে উপজেলায় মোট ৯ জনকে অপহরণ করে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। ফলে কক্সবাজারের সীমান্ত ও পাহাড়ি এই উপজেলায় অপহরণের আতঙ্ক বেড়েই চলছে। রোহিঙ্গারা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে বড়ডেইল এলাকায় পানের বরজ থেকে মো. শরীফ (৪২) ও আব্দুর রহমান (১৮) নামের দুই কৃষককে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। শরীফ কৌশলে পালিয়ে আসতে চাইলে তাঁকে গুলিতে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে রেখে তারা আব্দুর রহমানকে নিয়ে পাহাড়ে ঢুকে পড়ে। তাঁর হদিস এখনো মেলেনি। আব্দুর রহমান ওই এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। গুলিবিদ্ধ মোহাম্মদ শরীফকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, সকালে পাহাড়ের ঢালে পানের বরজে কাজ করতে যান শরীফ ও আব্দুর রহমান। এ সময় অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা দুজনকে ধরে নিয়ে যায়। দৌড়ে পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন শরীফ।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার ও পানখালী বাহারছড়া ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকায় কৃষকসহ ৮ জনকে অপহরণ করে পাহাড়ে বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। ৪ জন ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেও বাকি ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ মুমূর্ষু হয়ে ফিরেছেন। ভুক্তভোগীরা হলেন আবুল মন্জুরের ছেলে মো. শাহাজাহান, ঠান্ডা মিয়ার ছেলে আবু বক্কর ও তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান, নজির আহমদ ও তাঁর ছেলে মোহাম্মদ হোসেন, আব্দুল গফুরের ছেলে মো. শফিক ও মৌলভীবাজার এলাকার কালা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী। তাঁদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ শাহাজাহান ও আব্দুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কিছু চিহ্নিত অপহরণকারী হঠাৎ এসে জিম্মি করে তাদের বন্দিশালায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমার দুই হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কিরিচ দিয়ে ছবি তোলে। তাদের দাবি ছিল আড়াই লাখ টাকা। অন্যথায় এসব অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ করবে, না হয় মেরে ফেলবে। প্রাণ বাঁচাতে তাদের একটি গরু ও ২০ হাজার টাকা দিয়ে ফেরত আসি। আসার সময় বাকি টাকা ঠিক সময়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়। না হলে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ছবি পুলিশে দেওয়া হবে।

কিন্তু ফিরে টাকা দিতে অপারগ হওয়ায় তারা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।’ সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, টেকনাফের হোয়াইক্যং-শামলাপুর পাহাড়ি সড়ক, খারাংখালীর কম্বনিয়া, হ্নীলা ইউনিয়নের আলী আকবরপাড়া, পানখালী, রঙ্গিখালী, লেদা, জাদিমুড়া উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার একাধিক স্পটসহ প্রায় ১০টির বেশি পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও অপহরণকারীরা কৃষকসহ নানা শ্রেণির লোকজনকে অপহরণ করে তাদের বন্দিশালায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় অব্যাহত রেখেছে। কেউ কেউ প্রাণভয়ে ধারদেনা করে, গরু-ছাগল ও ভিটেমাটি বিক্রি করে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসছেন। আবার কেউ কেউ মুক্তিপণ দিতে না পারলে গহিন পাহাড়ের টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার হয়ে অথবা গুলিবিদ্ধ হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে পাহাড় থেকে নিয়ে আসে।

মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা লোকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, কিছু কৃষককে একদল সশস্ত্র মুখোশধারী অপহরণ করে তাদের বন্দিশালায় আটক রেখে নির্যাতন চালায়। কয়েকজন মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

টেকনাফ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, অপহরণের অভিযোগে এখন পর্যন্ত একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম জানান, গ্রামের লোকজন নিয়ে অপহরণকারীদের প্রতিরোধ করা হবে। -ডেস্ক রিপোর্ট

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here