​ মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ: গ্রেফতার ডিবির এসআই জাহাঙ্গীর কারাগারে

0
34

(দিনাজপুর২৪.কম) খুলনা নগরীতে মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগে নগর গোয়েন্দা বিভাগের এসআই জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার ভোর রাতে তাকে লোয়ার যশোর রোডের সুন্দরবন হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্ররণ করা হয়েছে। ভিকটিম নারীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরণ করা হয়।

ধর্ষণের দায়ে গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলম চুয়াডাঙ্গার বিষ্ণুপুর উপজেলার দামুড়হুদা গ্রামের মোঃ আতিয়ার রহমানের ছেলে। জাহাঙ্গীর আলম খুলনা মেট্রোপলিটনের (কেএমপি) গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বাজিকর গ্রামের ওই নারী গত মঙ্গলবার বিকেলে মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর জন্য খুলনায় আসেন। কিন্তু ডাক্তারের সিরিয়াল না পেয়ে আবাসিক হোটেল সুন্দরবনে দু’টি কক্ষ ভাড়া নেয় তার ভাগ্নের পূর্ব পরিচিত মিশারুল ইসলাম মনির। একটি কক্ষে মা-মেয়ে ও অপর কক্ষে তার ভাগিনা আলিমুল ইসলাম বাবু অবস্থান নেয়। রাত সোয়া ২টার দিকে গোয়েন্দা শাখার এসআই জাহাঙ্গীর আলম হোটেল বয় গোলাম মোস্তফাকে ডেকে নিয়ে ভিকটিমের (৩১৩ নং) কক্ষ ধাক্কা দিতে থাকে।

সে নিজেকে পুলিশের এসআই পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলার পর ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসা করেন সাথে কে আছেন। উত্তরে তিনি জানান, আমার সাথে ১১ বছরের কন্যা রয়েছে। এরপর ওই নারীর সাথে জাহাঙ্গীর আলম অসদাচারণ করতে থাকে। এ সময় চিৎকার শুরু করলে তার মেয়েকে ধর্ষণ করার হুমকি দেয় জাহাঙ্গীর। পরে ভয়ভীতি দিয়ে মেয়ের সামনে মাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে জাহাঙ্গীর আলম। ধর্ষণের পর ভিকটিম চিৎকার করলে হোটেল বয়, অন্যরাসহ হোটেল রুমে থাকা ভাগ্নে বিষয়টি হোটেল মালিককে বিষয়টি জানায়। এ সময় হোটেলের মেইন গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে ভিকটিম বাদী হয়ে খুলনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গত রাতে খুলনা সদর থানায় মামলা করেনবাদী (নং-৯, তাং-০৮/১২-২০২১)।

খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাসান আল মামুন যায়যায়দিনকে জানান, মোংলা থেকে ওই নারী তার ১১ বছরের মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর জন্য খুলনায় আসেন। তারা হাদিস পার্কের দক্ষিণ পাশে একটি হোটেলে অবস্থান নিয়েছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের এস আই জাহাঙ্গীর আলম জোরপূর্বক মা-মেয়ের কক্ষে যান। অসুস্থ মেয়ের সামনে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। পরে তার চিৎকারে হোটেলের ম্যানেজার এগিয়ে যান এবং বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান। এরপর ওই হোটেল থেকে তাকে (জাহাঙ্গীর) গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়নি।ডেস্ক

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here