মো. ইসমাইল হোসেন (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক! গরু জবাইয়ের পর সেই মাংস কাটাকাটির জের ধরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মমিনুল ইসলাম (৬৮) নামে এক ব্যক্তি অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। তার শরীরে ফোসকা উঠে যাওয়ায় চিকিৎসকরা এটিকে প্রাথমিকভাবে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ বলে সন্দেহ করছেন এবং নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মমিনুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার হাতিশাল গ্রামের বাসিন্দা। গত কিছুদিন আগে গ্রামের বাড়িতে একটি গরু জবাই করা হয় এবং মমিনুল ইসলাম সেই গরুর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর না কমায় গত ১৮ অক্টোবর তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তবে, গত কয়েক দিনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. সোলাইমান মেহেদী শনিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তির শরীরে জ্বরের পাশাপাশি বিভিন্ন অংশে ফোসকা দেখা দিয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে এটিকে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ বলে ধারণা করছি, যা গবাদিপশুর মাধ্যমে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে এবং অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুতই তার শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শনিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৫) বিকালেই মমিনুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, গরুর মাংস কাটাকাটির সঙ্গে রোগীর অসুস্থতার সম্পর্ক থাকার কারণে এটি ত্বকের মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ ('কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্স') হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে, পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এই ঘটনায় গ্রামের মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। এলাকার সাধারণ মানুষ অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংসের মাধ্যমে খাদ্যজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন। জনস্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।