আব্দুস সালাম, হেড অব নিউজ (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দিনাজপুরের দর্জি শিল্পে নিয়োজিত কারিগরদের দিনকাল ভালো যাচ্ছে না। একসময় বছরজুড়েই ব্যস্ততা থাকলেও বর্তমানে কেবল পবিত্র ঈদ এবং দুর্গাপূজার সময় ছাড়া অন্য মাসগুলোতে হাতে কাজ প্রায় থাকেই না। ফলে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষ।
স্থানীয় দর্জি দোকান মালিক ও কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাপড়ের বাজার, আধুনিক পোশাকের সহজলভ্যতা এবং তৈরি পোশাক শিল্পের বাড়বাড়ন্তের কারণে গত কয়েক বছরে তাদের ব্যবসায়ে ব্যাপক পতন ঘটেছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলার দর্জি কারিগর মো. শাহীন আলম জানান, আগে সারা বছরই মোটামুটি কাজ থাকতো। এখন এমন হয়েছে যে, ঈদের আগে বা পূজার আগে এক মাস কাজ করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়েই বাকি বছরটা কোনোমতে টানতে হয়।
কারিগররা বলছেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও তাদের মজুরি বাড়েনি। একটি প্যান্ট বা শার্ট সেলাই করে যে মজুরি পাওয়া যায়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
দোকান মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুতের বিল, দোকানের ভাড়া, এবং সেলাই সামগ্রী যেমন-সুতো, বোতাম, চেইন ইত্যাদির দাম অনেক বেড়েছে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তারা চাইলেও সেলাইয়ের মজুরি খুব বেশি বাড়াতে পারছেন না।
সুতো, বাটন ও যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। প্যান্ট, শার্ট বা কামিজ সেলাইয়ের মজুরি জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় কম। কম কাজের কারণে কারিগররা অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
কাজ না থাকায় অনেক দক্ষ কারিগর এখন বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন। কেউ দিনমজুরের কাজ করছেন, কেউবা রিকশা-ভ্যান চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই দিনাজপুর থেকে ঐতিহ্যবাহী এই দর্জি শিল্প বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দর্জি কারিগরদের বাঁচাতে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ঋণের ব্যবস্থা করা এবং সারা বছর কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।