মোস্তাফিজার রহমান (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দিনাজপুরে বীরগঞ্জে স্ত্রীর পরিকল্পনায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যার মামলার রহস্য উদঘাটন,৩ জন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার আলোচিত দানিয়ূল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। দীর্ঘ এক মাসের নিবিড় তদন্ত ও প্রযুক্তি নির্ভর তথ্যে বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যা কাণ্ডের মূল পরিকল্পনা কারী সহ তিন জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)মোঃ আনোয়ার হোসেন।গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মোঃ আবু বক্কর ওরফে বাদশা বাগের হাট জেলার সদর থানার উৎকুল গ্রামের মোঃ মোতালেব শেখ এর ছেলে,মোঃ শাহ্ আলম কল্লোল দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলার উত্তর বালুবাড়ি এলাকার মৃত মোঃ আলহাজ রজব আলীর ছেলে,মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া এলাকার মৃত দানিয়ূল ইসলামের স্ত্রী।সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান,তদন্তের এক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহ ভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় শনাক্ত করা হয়।গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ খুলনা ও বাগেরহাটে অভিযান পরিচালনা করা হলেও সে সময় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত আবু বক্কর ওরফে বাদশার ভাড়া বাসা থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।পরবর্তীতে গত ১৬ জানুয়ারি খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে র্যাব-৬(খুলনা)-এর সহযোগিতায় অভিযুক্ত মোঃ আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী এলাকা থেকে মোঃ শাহ আলম কল্লোল (৫৬) এবং বীরগঞ্জ উপজেলার আরাজি চৌপুকুরিয়া এলাকা থেকে মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।তিনি আরও জানান,তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল ও মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি পরস্পর যোগসাজশে আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন।দানিয়ূলকে হত্যার জন্য তারা দীর্ঘদিন সুবিধাজনক সময়ের অপেক্ষা করতে থাকেন।গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে বীরগঞ্জ থানাধীন আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামে জিন্দাপীর মেলা চলাকালে ব্যাপক লোকসমাগম হওয়ায় অভিযুক্তরা এটিকে হত্যাকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করেন। এ সময় আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে অজ্ঞাত ভাড়াটে খুনি চক্রকে দিনাজপুরে ডেকে আনা হয়।অভিযুক্ত মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি হত্যা কাণ্ডের মূল পরিকল্পনা করেন এবং দানিয়ূলের বাসায় কীভাবে প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হবে সে বিষয়ে একটি শর্ট ভিডিও তৈরি করে শাহ আলম কল্লোলের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। পরবর্তীতে আবু বক্কর ওরফে বাদশা তার সহযোগী পেশাদার খুনি বাহিনী নিয়ে দিনাজপুর সদরের বালুবাড়ী এলাকায় শাহ আলম কল্লোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দানিয়ূলের বাসার চাবি বুঝে নেন।হত্যা কাণ্ডের পরিকল্পনা সংক্রান্ত ভিডিওটি দেখে এবং পূর্বে ঘটনাস্থলে রেকি করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে রওনা হন। গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আনুমানিক ভোর রাতে আবু বক্কর ওরফে বাদশা ও তার সহযোগী পেশাদার খুনি বাহিনী দানিয়ূলের গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি প্রদান করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এবং আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।