(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৩৯টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১ কোটি ৫৪ লাখ ১০৩ জন। তারা ৫ হাজার ৫০৪টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এসব ভোট কেন্দ্রের বেশির ভাগই ঝুঁকিপূর্ণ। বিভাগীয় নির্বাচন কার্যালয় জানিয়েছে, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। তবে কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি পুলিশসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দেখবে।
পুলিশের সর্বশেষ মূল্যায়ন ও বিশেষ শাখার প্রতিবেদন অনুসারে, বিভাগের অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতীতে এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলাজনিত বিচ্যুতি ও সহিংসতার রেকর্ড আছে। ভোটগ্রহণের দিন এসব কেন্দ্রে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে বিষয়ে কাজ করছে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার সকালে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. শাহজাহান পিপিএম বলেন, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় পুলিশের মোট জনবল ১১ হাজারের কিছু বেশি। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। ভোটগ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোর ধরন, পরিস্থিতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য সব উদ্যোগ ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে পুলিশের।
রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের সূত্র মতে, ৫ হাজার ৫০৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২ হাজার ৭৮৬টিকে প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া বাকি কেন্দ্রেগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৩০৭টি আংশিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রের ঝুঁকি কমাতে সংসদীয় আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করা হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি থাকবে না। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিভাগের মধ্যে বগুড়ায় সাতটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এ জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি। ৯৮৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৫০১টিই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৪৮২টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। অন্যদিকে রাজশাহীর ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৯২ হাজার ১১৮ জন। এসব ভোটার জেলার ৭৭৮টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৪৩৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে মোট ভোটার ১৪ লাখ ২১ হাজার ৬৬০ জন, কেন্দ্র ৫১৫টি। এর মধ্যে ৩৪২টিই ঝুঁকিপূর্ণ।
নাটোরে ৪টি আসনে ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন। এসব ভোটার ৭৮০টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এর মধ্যে ১৯২ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নওগাঁ জেলার ছয়টি আসনে ভোটার ২৬ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৭৮২টি। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনে ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন ভোটার। জেলায় ভোটকেন্দ্র ৯২৩টি। এর মধ্যে ৪৬২টি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। বাকি ৪৬১টি সাধারণ কেন্দ্র। পাবনার ৫টি আসনে ভোটার ২২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪১ জন। মোট কেন্দ্র ৭১২টি। এর মধ্যে ২৬৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে। সর্বশেষ জয়পুরহাট জেলার দুটি আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৬ জন। জেলায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৫৫টি। এর মধ্যে ১৭৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, কেন্দ্রগুলোর অতীত রেকর্ড, চলমান প্রবণতা ও দুর্গমতা ইত্যাদি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ ঝুঁকি নিরূপণ করে। আমাদের ভাষায় এসব কেন্দ্রকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করি। ঝুঁকি যথাসম্ভব কমিয়ে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার কাজটি আমরা সমন্বিতভাবে করছি। -ডেস্ক রিপোর্ট