প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ২৮, ২০২৬, ৮:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ৬:০০ পূর্বাহ্ণ
দিনাজপুরে কৃষি খামারি অ্যাপে বাজিমাত: কম খরচে অধিক ফলনের স্বপ্ন বুনছেন তরুণরা
আব্দুস সালাম, হেড অব নিউজ (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দিনাজপুরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি খামারি অ্যাপের ব্যবহারে পাল্টে যাচ্ছে কৃষির দৃশ্যপট। সুষম সার প্রয়োগ, উন্নত বীজের ব্যবহার এবং সীমিত কীটনাশকের সঠিক নির্দেশনায় উৎপাদন খরচ কমিয়ে বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণরা এই অ্যাপ ব্যবহার করে কৃষিকে একটি লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে পরিণত করেছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করেছে।
সদরের বড়াইল বনকালি এলাকায় ১৫ জন যুবকের একটি দল সমবায় ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন। সম্পূর্ণভাবে অ্যাপের নির্দেশনা মেনে তারা চাষাবাদ পরিচালনা করছেন। আজিম উদ্দিন জানান, একই সময়ে রোপণ এবং একই মাত্রায় সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পুরো মাঠের ফসলের অবস্থা এখন চমৎকার। আলুর বয়স ৪৫ দিন পার হয়েছে, আর ২০-২৫ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
অ্যাপ ব্যবহারের সুফল পাচ্ছেন সাধারণ চাষিরাও। শাহিন আলম নামের এক কৃষক তার ৩৩ শতক জমিতে অ্যাপের পরামর্শ মেনে আলু চাষ করে গত বছরের তুলনায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা সাশ্রয় করেছেন। একইভাবে আজগার আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরা সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করলেও এখন তিনি তার বাবাকে অ্যাপের মাধ্যমে সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে বিঘাপ্রতি খরচ কমছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষারের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে এই অ্যাপ ব্যবহার করে আলু চাষ হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকার রাসায়নিক সার কম লেগেছে, যা সরকারের ভর্তুকির ওপর চাপ কমিয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেশবন্ধু মহন্ত বলেন, শিক্ষিত চাষিরা স্মার্টফোন ব্যবহারে দক্ষ হওয়ায় এই এলাকায় প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে অ্যাপের ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে, যা জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
সম্প্রতি আলুর খেত পরিদর্শনে এসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, সরকার কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে এই অ্যাপ উদ্ভাবন করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, গ্রামগঞ্জের শিক্ষিত চাষিদের মধ্যে এই প্রযুক্তির সঠিক বিস্তার ঘটানো সম্ভব হলে দেশের সামগ্রিক কৃষি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফসলের গুণগত মান ও জমির স্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে।
@2026