(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের হারনাই এবং পাঞ্জগুর জেলায় গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ৪১ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে ভারত সমর্থিত ‘ফিতনা-আল-খারেজি’ এবং ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তানের’ ৪১ সন্ত্রাসী নিহত হয়।
মূলত, আফগান তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পাকিস্তানি ইসলামপন্থী নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সন্ত্রাসীদের সম্বোধন করতে ‘ফিতনা আল খারেজি’ এবং পাকিস্তান জুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতায় ভারতের কথিত ভূমিকার জন্য ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ শব্দটি ব্যবহার করে পাকিস্তান সরকার।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, ‘প্রথমে হারনাই জেলার উপকণ্ঠে ফিতনা-আল-খারেজির উপস্থিতির খবর পাওয়া পরে ওই এলাকায় একটি আইবিও পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনার সময় সৈন্যরা কার্যকরভাবে গোপন আস্তানায় আক্রমণ করে এবং তীব্র গুলি বিনিময়ের পর ৩০ জন ভারত সমর্থিত খারিজকে জাহান্নামে পাঠানো হয়।’
এসময় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক পাওয়া গেছে, যেগুলো উতোমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী ধ্বংস করেছে বলেও জানায় আইএসপিআর।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পৃথকভাবে পাঞ্জগুর জেলায় একটি আইবিও অভিযানে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছিল এবং ফিতনা-আল-হিন্দুস্তানের ১১ জন ভারত- সমর্থিত সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়।’
নিহত সন্ত্রাসীরা অতীতে অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল দাবি করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং জানিয়েছে, গত ১৫ ডিসেম্বর পাঞ্জগুরে একটি ব্যাংক ডাকাতির সময় লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অর্থ নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের শেষের দিকে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার করার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওপর ব্যাপক হারে হামলা চালিয়ে আসছে টিটিপি। বিশেষ করে খাইবার-পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তান সরকার বলেছে, ভারতের সমর্থনে জঙ্গিরা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ভেতর থেকে তাদের তৎপরতা চালায়, যেখানে তারা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং হামলার পরিকল্পনা করে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার ও নয়াদিল্লি এই অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করেছে। -নিউজ ডেস্ক