(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিনব্যাপী ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘ভারত-সমর্থিত’ সশস্ত্র গোষ্ঠীর ১৯৭ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। অভিযানের সময় নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ পাকিস্তানি সেনা। পাশাপাশি সংঘর্ষে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছে।
জিও নিউজের খবরে বলা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি প্রদেশজুড়ে সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলার পর সেনাবাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। ওই দিন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বেলুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) একযোগে প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায়, যা প্রদেশের স্বাভাবিক জীবন কার্যত অচল করে দেয়। হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
সপ্তাহান্তে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এই ত্রিদিনের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। অভিযান চালিয়ে প্রথম ধাপে ৯২ জন ‘ভারত-সমর্থিত জঙ্গি’ নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন।
সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সন্ত্রাসীরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।
আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী অটল সাহস ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসীদের অপচেষ্টা ব্যর্থ করেছে। তবে তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য শহীদ হন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরবর্তী সময়ে স্যানিটাইজেশন অপারেশন চালানো হয়, যাতে হামলার পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী ও মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনা যায়। আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্ট প্রমাণ মেলে যে হামলাগুলো পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে এবং পুরো ঘটনায় তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি বেলুচিস্তানে কাজ করা অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানি নাগরিক এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। গত বছর তারা ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালিয়ে দুই দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। -নিউজ ডেস্ক