(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অংশ নেওয়া প্রকৌশলী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে বিএনপি। দলটির মনোনীত ৮ জন প্রকৌশলীর মধ্যে ৬ জন বিজয়ী হয়েছেন, আর ২ জন পরাজিত হয়েছেন। বিজয়ীদের মধ্যে ঢাকা-৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, নরসিংদী-৫, ফরিদপুর-২, মানিকগঞ্জ-২ ও শেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় পান। অন্যদিকে ঢাকা-১৪ ও কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির দুই প্রকৌশলী প্রার্থী পরাজিত হন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে অংশ নেওয়া একমাত্র প্রকৌশলী প্রার্থী নওগাঁ-২ আসনে জয়ী হয়ে দলকে সাফল্য এনে দেন। বিপরীতে এনসিপির একমাত্র প্রকৌশলী প্রার্থী ঢাকা-২০ আসনে পরাজিত হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুই প্রকৌশলী প্রার্থীও নিজ নিজ আসনে জয় পাননি। স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একজন প্রকৌশলী প্রার্থীও জয়ী হতে পারেননি।
১. বিএনপি
এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মোট ৮ জন প্রকৌশলী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে ৬ জন বিজয়ী হয়েছেন, আর ২ জন পরাজিত হয়েছেন।
ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছেন। ঢাকা-৬ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১০১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৮৮ জন। ভোটের হার ৪৮ শতাংশ। এ আসনে ভোট বাতিল হয়েছে ২ হাজার ২০৯টি। সে হিসেবে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৭৯টি।
খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ফলাফল অনুযায়ী খালেদ হোসেন মাহবুব ধানের শীষ প্রতীকে দুই লাখ ৯ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মো. আতাউল্লাহ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৫৪৭ ভোট।
আশরাফ উদ্দিন বকুল (নরসিংদী-৫)
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল। তার এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর পর আসনটি পুনরুদ্ধার করল বিএনপি। উপজেলার ১৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আশরাফ উদ্দিন বকুল পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দশ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী তাজুল ইসলাম (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৬৮২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ৯১ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন বকুল।
শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২)
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন; মোট কেন্দ্র ছিল ১১৭টি। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১১ দলীয় জোটের আল্লামা শাহ্ আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। আকরাম আলীর চেয়ে ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন শামা ওবায়েদ।
মইনুল ইসলাম খান শান্ত (মানিকগঞ্জ-২)
মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে তার নিকটতম খেলাফত মজলিসের (দেওয়াল ঘড়ি) প্রার্থী মো. সালাহ উদ্দিন পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট। এই আসনে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫টি। 'না' ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৯৮০টি।
ফাহিম চৌধুরী (শেরপুর-২)
শেরপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৫ ভোট।
সানজিদা ইসলাম তুলি (ঢাকা-১৪)
এ আসনে জামায়াতের ব্যারিস্টার আরমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার আরমান ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ব্যারিস্টার আরমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট। ব্যারিস্টার আরমান ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
জাকির হোসেন সরকার (কুষ্টিয়া-৩)
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৫৩ হাজার ৭৮১ ভোট বেশি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তিনি মোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০৯ ভোট।
২. জামায়াতে ইসলামী
জামায়াতে ইসলামী থেকে এবার একজন প্রকৌশলী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি নিজ আসনে জয়ী হয়ে দলকে সাফল্য এনে দেন।
ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক (নওগাঁ-২)
নওগাঁ-২ (ধামইরহাট ও পত্নীতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী প্রকৌশলী এনামুল হক ৬৫ হাজার ৮০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৭৩ ভোট। এছাড়া ঈগল প্রতীক নিয়ে এবি পার্টির প্রার্থী মতিবুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১১৮ ভোট।
৩. এনসিপি
এবারের নির্বাচনে এনসিপি থেকে একজন প্রকৌশলী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ভোটের হিসাবে পিছিয়ে পড়েন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ (ঢাকা-২০)
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪৭টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সব কেন্দ্রেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তমিজ উদ্দিন বিপুলভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮। এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩।
৪. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে দুইজন প্রকৌশলী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। তবে দুজনই পরাজিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা ভোটের ব্যাপক ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন।
ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইফুল ইসলাম (ঢাকা-১৬)
ঢাকা-১৬ আসনের ভোটে বেসরকারি ফলে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল হকের চেয়ে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন৷ নির্বাচনে আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পান ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম হাত পাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়েছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন (ঢাকা-১৩)
ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফলে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হকের চেয়ে ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি। ববি হাজ্জাজ মোট ভোট পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭। অন্যদিকে মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী ও দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের জয়েন্ট সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করেছেন।
৫. স্বতন্ত্র
স্বতন্ত্র হিসেবে একজন প্রকৌশলী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। তবে তিনি জয়ী হতে পারেননি। দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের সহায়তা না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল কঠিন।
ইঞ্জিনিয়ার তানভীর উদ্দিন রাজিব (নোয়াখালী-৬)
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম থেকে ২৬ হাজার ৭৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শাপলা কলি প্রতিকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ ৯০ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট। আর ফুটবল প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩৭১৪ ভোট শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করেছেন। -নিউজ ডেস্ক