• রংপুর বিভাগ

    দিনাজপুরে শিশু অপহরণের ৩ দিন পর মরদেহ উদ্ধার আসামী গ্রেপ্তার

      প্রতিনিধি ৬ ডিসেম্বর ২০২২ , ১১:২৩:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

    স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরে শিশু অপহরণের তিন দিন পর পাকেরহাটে এক ভাড়া বাসার আঙ্গিনা থেকে শিশুর বস্তা বন্দী মরদেহ উদ্ধার। দিনাজপুর পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন,শিশু আরিফুজ্জামানকে বলাৎকার করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। শিশুর বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয় এক লাখ টাকা,দিনমজুর বাবা ৫ হাজার ৪০০ টাকা বিকাশে দিয়ে আকুতি মিনতি করেন বিকাশে পাঠানো টাকা দিয়ে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম খুন্তি কিনে আনেন। তারপর বাড়ির আঙিনায় গর্ত খুঁড়ে শিশুর মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখে । দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।দিনাজপুরের খানসামায় নিখোঁজের দুই দিন পর রবিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে মাটি চাপা দেওয়া আরিফুজ্জামানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আরিফুজ্জামান উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের কায়েমপুর ডাক্তারপাড়া গ্রামের মোঃ আতিউর রহমানের ছেলে আরিফুজ্জামান সে চেহেলগাজী মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ বলেন,‘শিশুটিকে বাঁচাতে আমাদের জোর প্রচেষ্টা ছিলো। কিন্তু মুক্তিপণ চাওয়ার আগেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। মুক্তিপণ বাবদ প্রথম দফায় শিশুটির বাবার কাছ থেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকা বিকাশে নেওয়া হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে খুন্তি কিনে তার ভাড়া বাসার আঙিনায় শিশুটির মরদেহ পুতে রাখে ২ ডিসেম্বর রাতে শিশু নিখোঁজের বাবা সাধারণ ডায়েরি করার পরই আমরা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করি। এ ঘটনায় সন্দেহ ভাজন তিন যুবককে আটক করি। আটককৃতরা হলেন কায়েমপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে শরিফুল ইসলাম,গফুর উদ্দীন শাহপাড়া গ্রামের ওবায়দুরের ছেলে মোঃ শামীম মোঃ রিয়াজুলের ছেলে মোঃ শাহিনুর।তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বীরগঞ্জ সার্কেল) খোদাদাত হোসেন ও সহকারী পুলিশ সুপার (কাহারোল সার্কেল) রওশন আলীর সমন্বয়ে একটি টিম শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে।রবিবার (৪ ডিসেম্বর) রাত সোয়া একটার দিকে খানসামা উপজেলার পাকেরহাট মহাসড়ক-সংলগ্ন জিকরুলের মিলের পাশে নীলফামারী সদর থানা পুলিশের সাবেক গাড়িচালক আব্দুস সালামের বাড়ির আঙিনা খুঁড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশু আরিফুজ্জামানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই বাড়িটি আরিফুজ্জামানদের কায়েমপুরের বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার দূরে।বাড়ির মালিক আব্দুস সালাম ঠাকুরগাঁওয়ে থাকেন। তিনি তিন রুমের বাড়িটি দুজনকে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। তাদের মধ্যে এক ভাড়াটিয়া শরিফুল ইসলাম। একটি রুম মেস হিসেবে মাসিক ৪০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে গেলো তিন মাস ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। অন্য রুমে এক বয়স্ক দম্পতি থাকেন। শরিফুলের রুমে একটি কম্পিউটার পাওয়া গেছে। তিনি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক ডিজাইনের ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষক ছিলেন তিনি। পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, ২ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে খানসামা উপজেলার ডাক্তারপাড়া গ্রাম থেকে আরিফুজ্জামানকে কৌশলে নিজের বাইসাইকেলের ক্যারিয়ারে উঠিয়ে নেন শরিফুল। মেসে নিয়ে পর্ন দেখে তাকে বলাৎকার করে হত্যার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটির বাবা আতিউর রহমানের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন শরিফুল । সন্তানকে বাঁচাতে প্রথম দফায় ৫ হাজার ৪০০ টাকা বিকাশ করেন আতিউর। বিকাশ থেকে ওই টাকা তুলে খুন্তি কিনে আনেন শরিফুল । এরপর বাড়ির আঙিনায় খুঁড়ে আরিফুজ্জামানের মরদেহ বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে রাখে।গ্রেপ্তার শরিফুলকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান পুলিশ।

    মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

    আরও খবর

    Sponsered content