• Top News

    ওয়াদা করেন, নৌকায় ভোট দেবেন: প্রধানমন্ত্রী

      প্রতিনিধি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ৬:৪০:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরোনো ছবি

    (দিনাজপুর২৪.কম) আওয়ামী লীগের জনসভায় উপস্থিত হয়ে নৌকায় ভোটের ওয়াদা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সদরের হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত জনসভা থেকে এ ওয়াদা নেন প্রধানমন্ত্রী।

    শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আগামীতেও একমাত্র নৌকা মার্কার সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হবে। আগামীতে যে নির্বাচন হবে এই বছরের শেষে বা ২০২৪-এর জানুয়ারিতে, সেখানেও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। আপনারা ওয়াদা করেন, দুই হাত তুলে নৌকায় ভোট দেবেন।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই হাওড় অঞ্চল সবচেয়ে অবহেলিত। আমার নিজের অভিজ্ঞতা আছে। এই মিঠামইনে আমি যখন এসেছি তখন একটা রাস্তা ছিল না। কোনো কিছুই ছিল না। শুধু পানি আর পানি। এমনকি একটা রিকশা নৌকায় করে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু সে রিকশা চলারও জায়গা ছিল না।  এমনই একটি  অবস্থা থেকে গত ১৪ বছরে এই হাওড় অঞ্চলে বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। আজকে সেই দুর্দিন নেই।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি এবং যার ফলে এই অঞ্চল যথেষ্ট উন্নতি করেছে। কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার সদর থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার মরিচাখালী পর্যন্ত উড়াল সেতু নির্মাণ প্রকল্প ইতোমধ্যে আমরা একনেকে অনুমোদন করে দিয়েছি। এখন থেকে হাওড় অঞ্চলে যত সড়ক হবে আমরা সবই উড়াল সড়ক করে দেব। যাতে কোনো জমি নষ্ট না হয়, সড়ক যেন নষ্ট না হয়।’

    আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ, করিমগঞ্জ, চামড়াঘাট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণসহ ছয়লা, যশোদল, চৌদ্দশত বাজার সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কিশোরগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেছি। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কিশোরগঞ্জে ছিল না। সারা বছরই যেন মানুষ চলাফেরা করতে পারে সেই ধরনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আপনাদের জানালাম, এখানে আমরা যে ক্যান্টনমেন্ট করেছি, সেনা ছাউনি সেই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়ে যাচ্ছে। সেখানেও স্কুল হবে, চিকিৎসা কেন্দ্র হবে, সব ব্যবস্থা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘হাওড় এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। করোনাকালীন সময়েও ধান কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ এক জেলা থেকে আরেক জেলায় কেউ যেতে পারবে না। তখন আমাদের ছাত্রলীগকে আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম যে হাওড় এলাকায় যাও, ধান কেটে কৃষকের পাশে দাঁড়াও। শুধু ছাত্রলীগ না ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, আওয়ামী লীগের নেতারা সবাই তখন মাঠে নেমেছিল এবং আমাদের কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে সেই ধান কেটে দ্রুত সেই ধান তুলে দিয়েছিল।’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বন্যার সময় বন্যা দেখা দিলেই এই অঞ্চলে রিলিফের ব্যবস্থা আমরা সঙ্গে সঙ্গে যথাযথভাবে করি। আমরা সারা বাংলাদেশের মানুষের উন্নতি চাই। ইতোমধ্যে আপনারা জানেন, আমরা সার্বিকভাবে বয়স্ক ভাতা দিয়ে যাচ্ছি। যারা বয়োঃবৃদ্ধ কাজ করতে পারে না তাদের জন্য নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য আমরা ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষার্থী, তাদের লেখাপড়ার ওপর জোর দিয়েছি। প্রতিটি এলাকায় আমরা যেখানে স্কুল নেই, স্কুল করে দিচ্ছি। দুর্গম এলাকাগুলোতে আবাসিক স্কুল আমরা তৈরি করে দিচ্ছি, বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। প্রাইমারি থেকে এসএসসি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই। বাবা-মাকে পয়সা খরচ করে কিনতে হয় না।’

    এর আগে বেলা ৩টায় কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সদরের হেলিপ্যাড মাঠের জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তার আগমন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় হাওরের প্রতিটি প্রবেশপথ ও পয়েন্ট। এতে হাওরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র স্থান পায়।

    আজ সকাল থেকেই জনসভাস্থলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঢল নামে। বাঁশি বাজিয়ে, নানা স্লোগানে তারা মুখরিত করে রাখেন জনসভাস্থল। -নিউজ ডেস্ক

    মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

    আরও খবর

    Sponsered content