• Top News

    ঢাকার বাইরে আবার লোডশেডিং

      প্রতিনিধি ২১ জুলাই ২০২৩ , ১০:০০:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ

    (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) আবারও দেশজুড়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা দেশে দফায় দফায় লোডশেডিং হওয়ার খরব পাওয়া গেছে। তবে রাজধানীতে ডিপিডিসি ও ডেসকো নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় লোডশেডিং নেই বললেই চলে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিন ধরে ভ্যাপসা গরম পড়েছে, বৃষ্টিও কম। তাই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। জ্বালানি সংকটে চাহিদা অনুয়ায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারায় লোডশেডিং বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র।
    গত রোববার কারিগরি সমস্যার কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটি। বন্ধ হওয়ার আগে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াট প্রথম ইউনিট গড়ে ৩০০-৩২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্ল্যান্ডফিলে যে লিকেজ দেখা দিয়েছে, সেটা একটু গুরুতর। রামপাল কবে উৎপাদনে ফেরে সেটা এখন বলা যাচ্ছে না। এক সপ্তাহ লাগতে পারে আবার কমও লাগতে পারে। রামপাল বন্ধ হওয়ায়ও লোডশেডিং বেড়েছে।
    পিডিবি বলছে, সারা দিনে গড় চাহিদা ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট আর উৎপাদিত হচ্ছে সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াটের মতো। ১ হাজার মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
    তবে পিজিসিবির তথ্য বলছে, সারা দেশে ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি লোডশেডিং হচ্ছে। গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি থাকছে। পিজিসিবির তথ্য থেকে জানা গেছে, বর্তমানে রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে। বুধবার রাত ১টায় লোডশেডিং হয়েছে ১ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট, রাত ২টায় হয়েছে ১ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট, রাত ৩টায় হয়েছে ১ হাজার ৭২৩ মেগাওয়াট, রাত ৪টায় হয়েছে ১ হাজার ৫০২ মেগাওয়াট আর ভোর ৫টায় হয়েছে ১ হাজার ৩২৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং। এরপর থেকে চাহিদা কমতে থাকায় লোডশেডিংও কম হয়েছে। রাত ১১টায় লোডশেডিং হয়েছে ১ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট আর রাত ১২টায় হয়েছে ১ হাজার ৬৭৮ মেগাওয়াট।
    বুধবার সকাল ৮টায় সর্বনিম্ন ১১ হাজার ৬৫২ মেগাওয়াট উৎপাদন করা হয় আর সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৪৪৮ মেগাওয়াট উৎপাদিত হয় রাত ৯ টায়। ১৫৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা যায়নি। আর ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ইঞ্জিনের সমস্যা এবং মেইনটেনেন্সের জন্য বন্ধ রয়েছে।
    ডেসকোর কাওসার আমির আলি সন্ধ্যা ৭টায় সময়ের আলোকে জানান, বৃহস্পতিবার তাদের চাহিদা ছিল ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হয়নি। তবে কয়েক দিন ধরে চাহিদা কিছুটা বেড়েছে বলে জানান তিনি।
    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদিতে হচ্ছে গড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। এটি আরও বাড়তে পারে। অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে না পারলে লোডশেডিং আরও বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চাহিদামতো জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
    রাজধানীতে লোডশেডিং তেমন একটা না থাকলেও বিভিন্ন জায়গায় লোডশেডিংয়ে নাকাল হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। আমাদের ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-
    সিলেট : চাহিদার চেয়ে ২০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ হচ্ছে সিলেটে। ফলে লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। এতে বেড়েছে জনভোগান্তি। গত দুই দিন ধরে সিলেটে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপরে থাকার পাশাপাশি লোডশেডিংও অসহনীয় মাত্রায় বেড়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয় থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে দেড় ঘণ্টার মতো লোডশেডিং থাকে। এমন কোনো সময় নেই, যে সময় টানা ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গ্রামাঞ্চলে প্রতি ঘণ্টায় নয়, হঠাৎ দেখা মিলছে বিদ্যুতের।
    সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদির জানান, সিলেটে বিউবো ও পল্লী বিদুতের মোট চাহিদা ৫৫০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ৩৫০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে বিউবো পেয়েছে ১১৮ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুৎ ২৩২ মেগাওয়াট। ফলে ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
    কুড়িগ্রাম : জেলায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে উঠছে জনজীবন। বাড়ছে ক্ষোভ। নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৩ দিন ধরে পিক ও অফ পিক আওয়ারে চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় ১ ঘণ্টা পর পর লোডশেডিং করতে হচ্ছে। স্থানীয় পাওয়ার গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে ৪০ মেগাওয়াট। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
    কুড়িগ্রাম নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জীবন জানান, গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় রংপুর অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
    সুনামগঞ্জ : জেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় আকাশে মেঘ জমলেই কিংবা সামান্য বাতাস শুরু হলেই চলে যায় বিদ্যুৎ। দিন-রাতের প্রায় অর্ধেক সময় ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ৪-৫ বার লোডশেডিং হয়েছে। ধর্মপাশা জোনাল অফিসের এজিএম মো. হাফিজুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
    চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে বাড়ছে লোডশেডিং। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। কলকারখানার উৎপাদনে নেমেছে ধস। আর মানুষের তো প্রাণ যায় যায় অবস্থা।
    নগরবাসীর মতে, চট্টগ্রামে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টায় রেশনিং পদ্ধতিতে অন্তত ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় সব এলাকায় বিদ্যুৎ এলে থাকে আধা ঘণ্টা, আর গেলে ২ ঘণ্টায়ও আসে না। এর মধ্যে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা এবং রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
    বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রামের একাধিক বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে কর্মরত কর্মকর্তারাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে অর্ধেকেরও কম। সে কারণে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে।
    তবে বিষয়টি মানতে নারাজ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক বিদ্যুৎ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় চট্টগ্রামে ২৮০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি আমরা। সে অনুযায়ী লোডশেডিং করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি থাকায় সরবরাহে সমস্যা হতে পারে। এতে কোনো কোনো এলাকায় লোডশেডিং একটু বেশি হতে পারে। তবে এই লোডশেডিং অসহনীয় মাত্রায় নয়। বিজেএমইর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে চট্টগ্রামে পোশাক কারখানার উৎপাদন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ডলার সংকটের কারণে একদিকে রফতানি কমে গেছে। অর্ডার কমেছে। এরমধ্যে লোডশেডিং যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    দিনাজপুর : জেলার সীমান্তবর্তী হাকিমপুর হিলিতে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। এতে সাধারণ জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষ বলেছে, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম সরবরাহ পাওয়ায় লোডশেডিং চলছে।
    জানা গেছে, হাকিমপুর হিলি এলাকায় ফুলবাড়ী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। হাকিমপুর হিলি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন এলাকায় রয়েছেন কয়েক হাজার গ্রাহক।
    গ্রাহকদের অভিযোগ, গরমের শুরু থেকে লোডশেডিং থাকলেও হঠাৎ করে ইদানীং মারাত্মক লোডশেডিং চলছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেক সময়ে চলছে লোডশেডিং। টানা দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এসে আবারও এক-দেড় ঘণ্টা পর চলে যাচ্ছে।
    হাকিমপুর হিলি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সাব-জোনাল অফিসের এজিএম বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, হাকিমপুর হিলি এলাকার জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাচ্ছি আড়াই থেকে ৩ মেগাওয়াট। কখনো কখনো আবার ২ মেগাওয়াট। -নিউজ ডেস্ক
    মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

    আরও খবর

    Sponsered content