প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
৫ আগস্ট সেনাবাহিনী চুপ থাকলে গৃহযুদ্ধ ঘটতে পারত: আব্দুল হক
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) চেয়ারম্যান কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল হক, পিএসসি (অব.) বলেছেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট সেনাবাহিনী কোনো ভূমিকা না রেখে নীরব থাকলে দেশে বৃহত্তর সংঘাত বা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত। দেশের সেই সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং রাষ্ট্র গঠনে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর রাওয়া হেলমেট হলে ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম (অব.)। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।কর্নেল আব্দুল হক বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান সম্পর্কে জাতিকে সঠিক তথ্য জানানো সময়ের দাবি। এ বাহিনী গঠিত না হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের নেতৃত্ব কে দিত? মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।কর্নেল আব্দুল হক ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা থেকেই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই বাহিনীর সদস্যরাই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।তিনি বলেন, ২৫ মার্চের কালরাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পাশাপাশি চেরিয়াপাড়ায় সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠক, মুক্তিবাহিনী গঠন এবং প্রবাসী সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও স্বাধীনতা যুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে সহায়তা করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, সামরিক শিক্ষা, চিকিৎসা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ দেওয়া সেনাসদস্যদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।কর্নেল আব্দুল হক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শতব্যস্ততার মধ্যেও মন্ত্রী নির্ধারিত সফর পিছিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। একই সঙ্গে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান এবং আয়োজনে কোনো ত্রুটি থেকে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম