প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর মোদি সরকারকে কড়া বার্তা দিলেন রাহুল
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
প্রবল আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন এবং মোদি সরকারকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পথে প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।শনিবার (২৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা। দেশজুড়ে যেসব তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থী গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নেমে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে রাহুল বলেন, ‘আমরা তোমাদের নিয়ে গর্বিত, দারুণ কাজ করেছ শিক্ষার্থীরা’।তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় যারা রাস্তায় নেমে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন, সেই প্রত্যেক তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন।’ धर्मेंद्र प्रधान का इस्तीफा हमारे education system को फिर से संवारने की दिशा में बहुत बड़ा कदम है।शाबाश देश भर के छात्रों, आप सभी पर गर्व है।सड़कों पर आ कर लोकतंत्र, संविधान और अपने भविष्य की रक्षा में डट कर खड़े होने वाले हर एक युवा, हर छात्र को बहुत-बहुत बधाई।2 मांगें… pic.twitter.com/Uc2cEOCVKA— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) July 25, 2026এসময় তিনি উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনের সাফল্য সরকারের ভুল নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র, কৃষক ও শ্রমিকদের জন্যও একটি বড় বার্তা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক উপায়ে সাহস করে দাঁড়ালে যে পরিবর্তন সম্ভব, শিক্ষার্থীরা তা প্রমাণ করেছে। ভিডিও বার্তায় মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই সরকার ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল ও ধ্বংস করছে। তাই এখন এই সরকারকে অপসারণ করার সময় এসেছে”।বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আরও জেরালো আন্দোলনের নামার আহ্বান জানিয়ে রাহুল আরও বলেন, ‘ভয় পাবেন না, রুখে দাঁড়ানোর মধ্যেই মুক্তি আছে। চলুন সবাই এসঙ্গে মিলে এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করি।’ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হলেও শিক্ষার্থীদের প্রধান ৩টি দাবির মধ্যে এখনো দুটি দাবি বাকি রয়েছে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি তা শিগগিরই পূরণের আহ্বান জানান তিনি। দাবিগুলো হলো— আন্দোলনের সময় বিশেষ করে ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে বা বলপ্রয়োগ করেছে, তাদের প্রত্যেককে শাস্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো- ভারতের শিক্ষার্থীদের এবং দেশের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে পুরো ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।রাহুল গান্ধী বলেন, ‘যারা আমাদের ছাত্রদের দিকে আঙুল তুলেছে, তাদের ওপর হামলা করেছে, গুলি চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং পরিশেষে, বিক্ষোভ চলাকালে যে সকল ছাত্রছাত্রীর ওপর নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’ এরআগে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে তার পদত্যাগ কেবল একটি আংশিক বিজয়, আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)। তাদের বাকি ২টি দাবি সম্পূর্ণরূপে পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে হুশিঁয়ারি দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।দিল্লির যন্তর মন্তরের মূল মঞ্চ থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতির কারণে চরম হতাশায় ভুগে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রছাত্রীরা আত্মহত্যা করেছে তাদের পরিবার কি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত নয়? তাদের পাওয়া উচিত, তাই না? ঐ সমস্ত পরিবার ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য।’দ্বিতীয়ত, গত ২০ জুলাই যে পুলিশকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর গুন্ডার মতো হামলা চালিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।সূত্র: এনডিটিভি
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম