প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ভোট কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক ১১ দলীয় জোটের
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম, নিজস্ব প্রতিনিধি ||
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং প্রধান নির্বাচনি এজেন্টদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ তুলেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। এসব অভিযোগে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে শনিবার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৯টায় ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন।সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভোটের দিন বিকেল চারটা পর্যন্ত কোনো অনিয়মের সুরাহা করতে পারেনি প্রশাসন। সকালে যে পরিস্থিতি দেখেছিলেন, ভোট শেষ হওয়ার পরও তা অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাঁদের পোলিং এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় এজেন্টদের বের করে দেওয়ার পর নিজেদের মতো করে ফলাফল তৈরি করা হয়েছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে ফলাফল না দিয়েই বাক্সভর্তি ব্যালট নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়িবাড়ি হাই স্কুল কেন্দ্রে প্রকাশ্যে টেবিলের ওপর ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার প্রতিবাদ করায় তাঁদের প্রধান নির্বাচনি এজেন্টের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে প্রশাসন গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। একজন প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিরাপদ না থাকলে নির্বাচন কতটা একতরফা হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।ফলাফল ঘোষণার আগেই বিজয় র্যালি ও মিষ্টি বিতরণের প্রসঙ্গ তুলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি হাস্যকর ও পূর্বপরিকল্পিত। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মালা পরানো, মিষ্টি খাওয়ানো ও বিজয় র্যালির খবর দেখা গেছে। এতে সবকিছু আগে থেকেই গোছানো ছিল বলে দাবি করেন তিনি।দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিভিন্ন প্রচারণায় আগেই বলে বেড়াতেন, এবার গতবারের চেয়ে এক থেকে দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন।নির্বাচন-পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো পুরো ফলাফল তাঁদের হাতে আসেনি। বিভিন্ন এলাকা থেকে আহত নেতা-কর্মীরা আসছেন। সবকিছু পর্যালোচনা করে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দিনভর অনিয়ম, হামলা ও কারচুপির ঘটনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন পোলিং এজেন্ট শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন। নিরাপত্তার অভাবে অনেকে বাড়িতেও ফিরতে পারছেন না বলে দাবি করা হয়।অনিয়ম, নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বাসাবাড়ি এবং দোকানে ভাঙচুর ও হামলার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম