বৃহস্পতিবার , ১৬ মে ২০২৪ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. আইন আদালত
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. কৃষি ও কৃষাণ
  6. ক্যাম্পাস
  7. ক্রিকেট
  8. গল্প-সাহিত্য
  9. চাকুরি
  10. জাতীয়
  11. জেলার খবর
  12. টালিউড
  13. টেনিস
  14. তথ্য-প্রযুক্তি
  15. ধর্ম ও ইসলাম

ভুয়া সনদের ছড়াছড়ি বাউবির এলএলবি কোর্সে

প্রতিবেদক
admin
মে ১৬, ২০২৪ ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

করোনা মহামারি ও সেশনজটের কারণে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক আইন বিভাগের (এলএলবি) শিক্ষার্থীরা এখন অষ্টম বা শেষ সেমিস্টারের ক্লাস করছেন। এর আগে তারা সপ্তম সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ফল ঘোষণা হয়নি। এখন পর্যন্ত তাদের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ফল বেরিয়েছে। অর্থাৎ এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এখনো তাদের স্নাতক শেষ করতে পারেনি। অথচ বাউবির ওই সেশনের এলএলবি সনদ নিয়ে ঘুরছেন কেউ কেউ। একটি চক্রের মাধ্যমে ভুয়া সনদ বানিয়ে গ্র্যাজুয়েট বনে যাচ্ছেন অনেকেই। অবাক হওয়ার বিষয় হলো, এসব ভুয়া সনদ আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেই আপলোড করা হয়েছে। ফলে ‘শর্ষের ভেতরই যে ভূত’ লুকিয়ে আছে, তা নিশ্চিত বলা যায়। প্রশাসনের মধ্যেই কারা এই ভুয়া সনদ বাণিজ্যে জড়িত, তা চিহ্নিত করতে তদন্ত করছে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় দুইভাবে। একটি নিয়মিত, অন্যটি অনিয়মিত। বেশি বয়সী চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীরা অনিয়মিত হিসেবে ভর্তি হতে পারেন। এর মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্লাস হয় রবি থেকে বুধবার এবং অনিয়মিত যে কোনো বয়সের শিক্ষার্থীদের ক্লাস হয় শুক্র ও শনিবার। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন দুই ব্যাচে ৬০ জন করে ১২০ শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। এসব শিক্ষার্থীর ক্লাসের রোল নম্বরও ১ থেকে ৬০-এর মধ্যে হয়।

জানা গেছে, এলএলবি প্রথম ব্যাচে শুধু শুক্র ও শনিবার ক্লাস হতো। সেই ব্যাচে ৫৯ শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বাউবির ওয়েবসাইটের তালিকা অনুযায়ী ৬১ নম্বরধারী একজনের সনদ পাওয়া গেছে। মাহবুব রহমান নামে ওই শিক্ষার্থীকে চেনে না তারই সহপাঠীরা। আবার অনিয়মিত ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এখনো অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষা না হলেও ৬৯ রোলধারী নুর নবীর পরীক্ষার ফল দেখানো হচ্ছে জিপিএ-৩.২০ (৪-এর মধ্যে)। পাসের সাল ২০২৩। আবার ৭০ রোলধারী আসিফ উল্লাহ রাহাতের পরীক্ষার পাসের সাল ২০২২ এবং ফল দেখানো হচ্ছে ৩.২২ (৪-এর মধ্যে)। অথচ ৬১ থেকে ৬৭ রোলধারীদের নামের পাশে কোনো ফল দেখানো হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৬১ বা এরপর কোনো রোল থাকার কথা নয়। কিন্তু যাদের এই তালিকার পরে রোল পাওয়া যাচ্ছে, তাদের ভর্তিতে কারসাজি হয়েছে। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন।

ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা  বলেন, ‘আমাদের তো অষ্টম সেমিস্টারের পরীক্ষাই হয়নি। তাহলে সনদ আসবে কীভাবে? তা ছাড়া সনদে যে ফল দেখানো হয়েছে সেটিও সম্ভব নয়।’

তারা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়। তাদের হাত না থাকলে জাল সনদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়ার কথা নয়। আমরা শুনছি, কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আগের ব্যাচগুলোতেও অনেকে জাল সনদ নিয়েছে।’

জানা গেছে, জাল সনদ বাণিজ্যের জন্য দালাল চক্র সামাজিক যোগাযোগকে কাজে লাগায়। ফেসবুকের ইনবক্সে মেসেজ দিলে বিস্তারিত জেনে সনদের জন্য টাকা দিতে বলা হয়। টাকার অঙ্ক ৫০ হাজার থেকে লাখের কাছাকাছি। টাকা দিলে এক বা দুই দিনের মধ্যেই সনদ দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই দালালদের টাকা দেওয়া হলে তারা যেই সনদ দেন সেটি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটেই লগইন করে দেখা যায়।

জানা গেছে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভারে ফল আপলোডের মূল দায়িত্ব সহকারী সিনিয়র প্রোগ্রামার খালিদ সাইফুল্লাহর। তিনিসহ ওই বিভাগে কাজ করেন মোট ৫ জন। তাদের কাছেই মূলত পাসওয়ার্ড থাকে।

এরই মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে খালিদ সাইফুল্লাহসহ পাঁচজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের কেউ এই জালিয়াতি করেছে, নাকি তাদের আইডি ব্যবহার করে অন্য কেউ করেছে, সেটিই তদন্ত করছে কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে সহকারী সিনিয়র প্রোগ্রামার খালিদ সাইফুল্লাহ ও প্রোগ্রামার সঞ্জিব কুমার সাহাকে টেলিফোন করা হয়। খালিদ সাইফুল্লাহ ফোন ধরেননি আর সঞ্জিব সাহা কল কেটে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সদরুল আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘এখনো যেহেতু পরীক্ষাই (এলএলবি) হয়নি, এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। সবকিছু তদন্ত কমিটির হাতে। তাদের রিপোর্ট না পেলে কিছু বলা যাবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এমন ঘটনা আমাদেরও অবাক করেছে। পরীক্ষাই যেখানে শেষ হয়নি, সেখানে তারা ফল কীভাবে পেয়ে গেল? এর পেছনে দুষ্টচক্র তো রয়েছেই। আমরাও চাই সেই চক্রের তথ্য সামনে আসুক।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাউকে ছাড় দেবে না। এরই মধ্যে তদন্তের স্বার্থে ওই বিভাগের পাঁচজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিও কাজ করছে। সময় নিয়ে হলেও তাদের মাধ্যমে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে, এটাই কামনা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নাসিম বানু বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এগুলো উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) দেখছেন। তিনিই বিষয়টি নিয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার কথা হলো, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটা উচিত নয়। এটি প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করে।’

সার্বিক বিষয়ে বাউবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন  বলেন, ‘আমরা বিষয়টি আগে থেকে জানতাম না। বিশেষ করে আমি দায়িত্বে আসার পর কখনো এমন কোনো অভিযোগ পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘যাদের কাছে সার্ভারের পাসওয়ার্ড রয়েছে, তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। তাদের রিপোর্টে পেলে প্রয়োজনে যারা আগে এভাবে সনদ নিয়েছে, তাদেরটাও বাতিল করা হবে।’ -সূত্র : কাল বেলা

সর্বশেষ - আইন আদালত