মোঃ ইসমাইল হোসেন (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) শীত এখনও পুরোপুরি জাঁকিয়ে বসেনি, কিন্তু তার আগেই দিনাজপুরের কৃষকের মাঠে শুরু হয়েছে এক নতুন সবুজ বিপ্লব। কে আগে বাজারে আগাম সবজি তুলতে পারবেন, তা নিয়ে ফসলের মাঠে চলছে এক নীরব প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে রয়েছে শীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজি আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি, যা এখন কৃষকের কাছে সাদা সোনা’র মর্যাদা পাচ্ছে। অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এই আগাম চাষ বহু কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
দিনাজপুরের বিভিন্ন গ্রাম কাহারোল, বীরগঞ্জ, এবং অন্যান্য এলাকায় এখন ফুলকপিরই রাজত্ব। এই চাষের অবিশ্বাস্য লাভজনক চিত্র তুলে ধরেছেন কাহারোলের রাঙ্গাচাটা হাট এলাকার কৃষক লিয়াকত
তিনি জানান, আগাম সবজি চাষ করা কষ্টসাধ্য হলেও দ্বিগুণ লাভ হয়। এবার চারার দাম বেশি থাকায় উৎপাদনে প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু খরচ বাদ দিলে বিঘা প্রতি আমাদের ১ লক্ষ টাকার উপরে লাভ থাকে।
নভেম্বর মাসে বিয়ে, অনুষ্ঠান, এবং সাধারণ খাদ্যের তালিকায় ফুলকপি-বাঁধাকপির ব্যাপক চাহিদা থাকে। এই সময়ে বাজারে আসা আগাম সবজি আশানুরূপ দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এই সবজি এখন সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বীরগঞ্জের কৃষক মাহাবুব ও আইনুল জানান, তারাও আগাম ফুলকপি চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। অন্যদিকে, বীরগঞ্জেরই কৃষক নুরুজ্জামান জানান, তিনি মার্বেল এবং আর্লি স্পেশাল জাতের বীজ ব্যবহার করে ৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। চারা রোপণের মাত্র ৪৫-৫০ দিন পর থেকেই তিনি সবজি বিক্রি শুরু করেছেন। অক্টোবরের শেষ থেকেই বাজারে এই সবজি পাওয়ায় অনেকে এতেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।
সাধারণত শীতকালীন সবজি দেরিতে বাজারে আসে, তখন সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে যায়। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতেই সবজি বাজারে আনার কৌশল কৃষকদের প্রথম দিকেই উচ্চ মূল্য নিশ্চিত করে। এটি শুধু কৃষককে পুঁজি নয়, বরং দ্বিগুণ লাভের সুযোগ করে দেয়।
চামদুয়ারী গ্রামের কৃষক মুহম্মদ আলীর মতো বহু কৃষকই এখন বলছেন, আগাম জাতের সবজি চাষই তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।



















