শুক্রবার , ২ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. আইন আদালত
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. কৃষি ও কৃষাণ
  6. ক্যাম্পাস
  7. ক্রিকেট
  8. গল্প-সাহিত্য
  9. চাকুরি
  10. জাতীয়
  11. জেলার খবর
  12. টালিউড
  13. টেনিস
  14. তথ্য-প্রযুক্তি
  15. ধর্ম ও ইসলাম

বাংলাদেশকে চার টুকরো করার আহ্বান : তলোয়ার বিলির পর এবার মুসলিমদের পিষে ফেলার হুমকি হিন্দুত্ববাদী নেতার

প্রতিবেদক
admin
জানুয়ারি ২, ২০২৬ ৫:০৮ অপরাহ্ণ

(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে প্রকাশ্য দিবালোকে হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিদের তলোয়ার বিতরণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় মুসলিমদের লক্ষ্য করে চরম উস্কানিমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের এক নেতার এই বিদ্বেষমূলক ভাষণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২২ ডিসেম্বর লুধিয়ানায় আয়োজিত এক জনসভায় একটি হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর নেতা মুসলিমদের লক্ষ্য করে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “যখন বজরং দলের প্রতিটি নেতা অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামবে, তখন আমরা ওদের (মুসলিমদের) পিষে দেব।”
ওই নেতা বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত সহিংসতার ঘটনাকে পুঁজি করে ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে জনমত উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেন।‌মঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের উচিত বাংলাদেশে সমস্ত পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি আমাদের কথা না মানে, তবে বাংলাদেশকে চার টুকরো করে দেওয়া উচিত’।” এছাড়া তিনি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যৎবাণী করে ভীতি ছড়ান। তিনি বলেন, “সেই দিন আর দূরে নেই যখন পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং পূর্ব ভারত ধ্বংস হয়ে যাবে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, বাংলাতেও হিন্দুদের হত্যা করা হবে— যদিও এই দাবির স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

বক্তব্যের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশে ওই নেতা ঘোষণা করেন যে, প্রতিটি গ্রামে ‘হনুমান চালিশা কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে। তিনি দাবি করেন, এই কেন্দ্রগুলো মূলত মুসলিমদের শুক্রবারের জুম্মার নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রম প্রতিহত করতে ব্যবহার করা হবে। তার মতে, লাখ লাখ হিন্দু যখন হনুমান চালিশা পাঠ করবে, তখন “জিহাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের আলোচনা” বন্ধ হয়ে যাবে।
লুধিয়ানার এই ঘটনার ঠিক কয়েকদিন আগেই গাজিয়াবাদের শালিমার গার্ডেন এলাকায় জঙ্গি গোষ্ঠী ‘হিন্দু রক্ষা দল’-এর পক্ষ থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে তলোয়ার বিলি করা হয়। সংগঠনের জাতীয় সভাপতি পিংকি চৌধুরী এবং তার অনুসারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অস্ত্র রাখার পরামর্শ দেন। তারা দাবি করেন, বাংলাদেশে দীপু দাসের মতো হিন্দুদের হত্যার পর হিন্দুদের আত্মরক্ষার জন্য ঘরে ঘরে অস্ত্র থাকা প্রয়োজন।

লুধিয়ানার এক মুসলিম বাসিন্দা বলেন, “আমরা ভারতের নাগরিক, বাংলাদেশের ঘটনার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রার্থনায় বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”

নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ ধরনের বক্তব্য কেবল ধর্মীয় সম্প্রীতিই নষ্ট করছে না, বরং সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা ‘হেট স্পিচ’ ভারতের সংবিধান এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। -নিউজ ডেস্ক

সর্বশেষ - অর্থনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত