মো. শাহ্ আলম নূর আকাশ, সম্পাদকীয় (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তথা আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি শুধু একজন খেলোয়াড় বা একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিরাপত্তা, ক্রীড়া-নৈতিকতা ও রাজনীতির অনভিপ্রেত অনুপ্রবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’ দেখিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দুঃখজনকই নয়, অপমানজনকও-বিশেষ করে এমন একজন খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে, যিনি বহু বছর আইপিএলে খেলেছেন, সাফল্য দেখিয়েছেন এবং কখনোই শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগে জড়াননি। ফলে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য এক অশনিসংকেত।
ঘটনার সূত্রপাত ১৬ ডিসেম্বর, যখন নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নেয় কলকাতা নাইটরাইডার্স (কেকেআর)। কিন্তু এরপরই ভারতের কিছু উগ্রবাদী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এমনকি পিচ নষ্ট করে দেওয়া এবং বিমানবন্দর থেকে বের হতে না দেওয়ার মতো হুমকিও দেওয়া হয়। আরও হতাশাজনক বিষয় হলো-বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই এই উগ্রবাদের কাছে নতি স্বীকার করে কেকেআরকে নির্দেশ দিয়েছে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে। বিসিসিআই যেখানে একজন বিশ্বসেরা ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেখানে আগামী মাসে পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ভারত সফরে যাবে, তখন তাদের নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে?
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ইতোমধ্যে বিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিসিকে জানাতে। যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয় এবং ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না করা যায়, তবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় সরিয়ে নেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। যদিও বিসিসিআই একে ‘লজিস্টিক দুঃস্বপ্ন’ বলে দায় এড়াতে চাইছে; কিন্তু প্রাণের ঝুঁকির চেয়ে লজিস্টিক সংকট বড় হতে পারে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের যে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে, তা ভারতের এই সংকীর্ণ মানসিকতার বিরুদ্ধে একটি পালটা শক্ত অবস্থান হিসাবে গণ্য হতে পারে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর ঠিকই প্রশ্ন তুলেছেন-ক্রিকেটকে কেন রাজনীতির হাতিয়ার বানানো হচ্ছে? অপরাধ না করেও যদি একজন ক্রিকেটারকে কেবল তার জাতীয়তা বা ধর্মের কারণে হেনস্তার শিকার হতে হয়, তবে তা বৈশ্বিক ক্রিকেটের অপমৃত্যুর শামিল। পরিশেষে, আইসিসিকে এখানে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। ভারত যদি একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণকারী দেশের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি তোলা কোনোভাবেই অযৌক্তিক নয়। ক্রিকেট যেন কোনো গোষ্ঠীর উগ্র চেতনার কাছে হেরে না যায়-সেই দায়বদ্ধতা এখন আইসিসি এবং বিসিসিআইয়ের ওপরই বর্তায়। -ডেস্ক