মোঃ আবদুল্লাহ (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার পূর্ব সাদীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ মাসের ও বেশী সময় ধরে অনুপস্থিত। তবে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত বেতন ও ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলেও তিনি স্বাক্ষর করছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিদুল ইসলাম চুপি চুপি অসময়ে সকলের অজান্তে এবং একমাত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহায়ক বিষয়টি জানেন। প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিদুল ইসলাম শিক্ষা অফিস কিংবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান না। দীর্ঘদিন থেকে অনুপস্থিত থাকলেও কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অভিভাবক আব্দুস সাত্তার ও আলী হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। দিন দিন কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থী। অপর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রঞ্জিত কুমার রায় বলেন, মাসের পর মাস বেতন-ভাতা উত্তোলন ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন এটি এলাকাবাসীর সঙ্গে তামাশা। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। প্রধান শিক্ষক নেই ক্লাসে শৃঙ্খলা নেই অথচ বেতন তুলছেন নিয়মিত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার রায় বলেন, ৫ই আগস্টের পর থেকে স্কুলে আসে না। তবে তিনি বেতন ভাতার বিলে স্বাক্ষর করেন। বিদ্যালয়ের কাছ থেকে শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও স্বাক্ষর করেন প্রতিমাসে। বিদ্যালয়ের মোবাইল ফোন তার কাছে। এতে নানা সময় বিভিন্ন কাজে ওটিপি যায় তার কাছে। পরে তার কাছ থেকে ওটিপি আনতে হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে পূর্ব সাদীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি স্কুলে এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার রায় বলেন, প্রধান শিক্ষক ফুলফিল দায়িত্ব না দেওয়ার কারণে আমার স্কুল পরিচালনার সমস্যা হচ্ছে।
সাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল হক এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, আমি চলতি মাসের ৪ তারিখে অবসরে গেছি। তবে প্রধান শিক্ষক গত ২৪ সালের ৫ ই আগস্ট থেকে বিদ্যালয়ে যান না। তবে তিনি শিক্ষকদের বেতন ভাতা স্বাক্ষর করে ও নিয়মিত বিল উত্তোলন করে। বিদ্যালয়ের যাবতীয় লেনদেনের কাজ তার স্বাক্ষরেই হচ্ছে। এই শিক্ষা কর্মকর্তা আরোও বলেন, আমি যখন সভাপতি ছিলাম তখন তাকে অনেকবার শো-কোজ করেছি। শো-কোজের কোন জবাব দেয়নি। আমি প্রায়ই ১ মাসের অধিক হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখিয়েছি।
কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোকলেদা খাতুন মীম জানান, বিষয়টি আমি অল্পদিন হলো জেনেছি। অল্পদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।



















