(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একই নামের দুই প্রার্থী। একজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, অন্যজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১–দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। রাজধানীর মিরপুর গোলচত্বরের পাশে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন এবং জোটের নীতি-আদর্শ ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এতে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি আস্থা ও সমর্থন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী জোট মিরপুর-১০ গোলচত্বরের পূর্ব পাশে বিকেল চারটার দিকে একটি বড় জনসমাবেশের আয়োজন করে। এতে অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল ও মিরপুর-১০ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঐতিহ্য ও সংগঠনিক শক্তি ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করছে।
জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নেতারা বলছেন, এই আসন থেকে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত রাজনীতি করছে। তাঁদের মতে, ডা. শফিকুর রহমানই এখানে সবচেয়ে শক্ত প্রার্থী। স্থানীয় জনগণ জামায়াতের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত থাকায় তাঁর প্রতি আস্থা ও সমর্থন রয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, জামায়াতের নীতি-আদর্শ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষের মধ্যে ডা. শফিকুর রহমানের গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি। মিরপুর ও কাফরুল এলাকার মানুষ এখন নিরাপত্তা, শিক্ষা ও উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় ভোটাররা তাঁকে প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় জামায়াত কর্মী আবু বকর বলেন, বিএনপির প্রচারণা থাকলেও মাঠপর্যায়ে জামায়াতের সংগঠন শক্তিশালী। ভোটারদের মধ্যে জোটবদ্ধ সমর্থন থাকায় শেষ পর্যন্ত জয় ডা. শফিকুর রহমানের হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও একই দিনে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি তালতলা থেকে শুরু করে মিরপুর-১০ হয়ে মিরপুর-১৩ পর্যন্ত গণসংযোগের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটি এই আসনে নিজেদের ঐতিহ্যগতভাবে শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে দাবি করছে।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নেতারা জানান, ঢাকা-১৫ আসন দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাঁদের মতে, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর কামরুল ইসলাম এই আসন থেকে দুইবার নির্বাচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
তাঁরা বলেন, বর্তমান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তালতলা, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১৩ এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। স্থানীয় নেতারা আশাবাদী, ভোটাররা দলীয় ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের যোগ্যতা বিবেচনায় বিএনপিকে সমর্থন দেবেন।
কাফরুল থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, এটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ঘাঁটি। সাবেক সংসদ সদস্য মেজর কামরুল ইসলাম এখান থেকে দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এই আসনে বিএনপির জয় সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের মতে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। জামায়াতের নীতি-আদর্শ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেশি। বিশেষ করে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল ও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় দলটির দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলছে।
তাঁদের মতে, কেবল ঐতিহ্য বা অতীত অর্জন দিয়ে এখন আর ভোট জেতা সম্ভব নয়। বর্তমান ভোটাররা কাজ, নিরাপত্তা, সামাজিক মূল্যবোধ ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই বিবেচনায় ডা. শফিকুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন বলে তাঁদের ধারণা।
স্থানীয় বাসিন্দা আকতার হোসেন বলেন, ডা. শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সমস্যা শুনছেন এবং সমাধানের চেষ্টা করছেন। তাঁর নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। কিছু বাসিন্দা বলছেন, ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি এই এলাকায় শক্তিশালী হওয়ায় দলটির প্রার্থী বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। যদিও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক জনসমাবেশ ও গণসংযোগে জামায়াতের কার্যক্রম আরও জোরালো হচ্ছে এবং এতে ডা. শফিকুর রহমানের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
ঢাকা-১৫ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। তালতলা, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত ও পূর্ব সেনপাড়া এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। এখানে ভোটারদের কাছে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা-১৫ আসনের লড়াই মূলত দুই শফিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। শেষ পর্যন্ত যিনি ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা দেখাতে পারবেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। -নিউজ ডেস্ক


















