(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায়ে আরও আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক এমপি সাইফুলের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের মাছে বণ্টনের নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে রাজসাক্ষী আবজালুলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- বিশ্বজিৎ সাহা (পলাতক), রনি ভূইয়া (পলাতক), সাবেক এসআই আব্দুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার, পুলিশের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম (পলাতক), এ.এফ.এম সায়েদ রনি (পলাতক)। রনিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিবির সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন আরজু, মোঃ আসাদুজ্জামান রিপন (পলাতক), মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান (পলাতক), নির্মল কুমার দাস (পলাতক)।
এছাড়া সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দিন ও কামরুল হাসানকে (পলাতক) সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের যথাক্রমে ৫ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিন ১২টা ২৫ মিনিটে এ মামলায় গ্রেফতার আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তাদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত রায় পড়ছেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গ্রেপ্তাররা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
পলাতক আট আসামি হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।
এ ঘটনায় শহীদ হয়েছেন সাতজন। তারা হলেন- শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। সে সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন এসআই শেখ আবজালুল হক। একই বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করে প্রসিকিউশন।
এদিকে রায় ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয় ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায়। পুলিশ-র্যাব, বিজিবির পাশাপাশি নিয়োজিত ছিল সেনাবাহিনী। তৎপর ছিল গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।
এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় হওয়া মামলার তৃতীয় রায়। গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। -নিউজ ডেস্ক



















