(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। ভোটের প্রচারণায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একে অপরকে নানাভাবে সমালোচনা করছেন। আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, যে ৫৯ জন ভয়াবহ ঋণ খেলাপি, ব্যাংক ডাকাত– এদেরকে আপনারা মনোনয়ন দিলেন কেন? তাদের বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে, এমপি বানিয়ে আপনারা (বিএনপি) করবেন দুর্নীতি দমন?
ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি দল আছে, তারা মাঝে মধ্যে বলেন, তারা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। ভালো কথা, ভালো কাজ নিজের ঘর থেকে শুরু করা লাগে। কিন্তু যে ৫৯ জন ভয়াবহ ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাত, এদেরকে আপনারা মনোনয়ন দিলেন কেন? তাদেরকে বগলের নিচে আশ্রয় দিয়ে এমপি বানিয়ে আপনারা করবেন দুর্নীতি দমন? এগুলো শুনলে প্যাঁচাও হাসবে, জনগণ এগুলো বোঝে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এখন জিম্মি। যারা সাড়ে ১৫ বছর দেশের বাইরে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, তারা ফিরে এসে এখন খুনের মামলা দিয়ে শত শত কোটি টাকা দাবি করছেন। আগস্টের ৬ তারিখ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই অপকর্ম থামেনি। এমনকি ফুটপাতের ভিক্ষুকের কাছ থেকেও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা কি এজন্য লড়াই করেছিলাম যে, পুরাতন চাঁদাবাজের বোতলে নতুন চাঁদাবাজের জন্ম হবে?’
ঢাকা-১১ আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রক্তের ঋণ শোধ করার দিন। তরুণ সমাজ জানিয়ে দিয়েছে তারা পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতি আর চায় না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে দায়িত্ব দিতে চাই। বেকার ভাতা দিয়ে আমরা যুবসমাজকে অপমান করতে চাই না। আমরা চাই কর্মসংস্থান।’
১০ টাকা কেজি চালের প্রতিশ্রুতিকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমানের বিভিন্ন ‘কার্ড’ প্রথাকেও লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইনসাফের সরকার কায়েম হলে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী– কারও জন্যই আইনের ঊর্ধ্বে কোনো ছাড় থাকবে না। লুণ্ঠিত অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক লড়াই চালানোর ঘোষণা দেন তিনি।
জনসভায় জামায়াত আমির ঘোষণা করেন, জনগণ যদি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে রায় দেয়, তাহলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা নাহিদ ইসলামের মতো তরুণদের পাইলট হিসেবে বসিয়ে নিজেরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হয়ে বসব। যুবকরা আমাদের হতাশ করবে না।’
জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই জনসভায় এনসিপি ও জামায়াত সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। -নিউজ ডেস্ক



















