(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি ‘জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে।’ এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথবাক্য পাঠ করেন। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
শপথ গ্রহণ উপলক্ষ্যে সংসদ ভবন এলাকায় সকাল থেকেই ভিড় দেখা যায়। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড়ও লক্ষণীয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান দেখা গেছে।
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, আজ সকাল ১০টায় শুরুতে বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন সিইসি। এরপর বিএনপি জোটের নির্বাচিত তিনজনকে শপথ পাঠ করানোর পর দুপুর ১২টায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি। এরপর জামায়াতের জোটের শরিক দলগুলোর সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে।
শপথ শেষে সংসদ ভবনের তৃতীয় তলায় রাখা শপথ বইয়ে সই করবেন সংসদ সদস্যরা। এরপর পরিচয়পত্রের জন্য ছবি, আঙুলের ছাপ, ডিজিটাল স্বাক্ষর করবেন তারা। এ জন্য ১০টি বুথ রাখা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য সংসদ ভবনের নিচতলার শপথকক্ষ এবং সংসদ ভবনের নয়তলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সভাকক্ষ গতকালই প্রস্তুত করা হয়েছে।
শপথের কার্যক্রম শেষে বিএনপির সংসদীয় দল বেলা সাড়ে ১১টায় বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা, উপনেতা, চিফ হুইপ নির্বাচন করা হতে পারে। একই সভায় আগামী জাতীয় সংসদের স্পিকার বাছাই করা হতে পারে; যা সংসদের প্রথম অধিবেশনে কণ্ঠভোটে পাস হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা নির্বাচনের পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রীর শপথ পড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হবে। এর ভিত্তিতে বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা প্রস্তুত করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে থাকবে আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার চেয়ার। সংসদ ভবন এলাকায় সাজসজ্জা করা হয়েছে। রীতি অনুযায়ী, শপথ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য মূল ভবনে প্রবেশ করেন। তবে এবার নিরাপত্তার কারণে শুধু নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রবেশ করতে পারবেন। অবশ্য দু-একটি ব্যতিক্রম বিবেচনা করা হতে পারে।
বিগত জাতীয় সংসদগুলোর শপথ অনুষ্ঠানের দিন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় কাটাতেন। সূত্র বলেছে, এবার সংসদের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১৬৫ জন ছাড়া বাকি সবাইকে সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে কয়েকজন বাদ পড়তে পারেন।
অতীতে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় সংসদ সচিবালয় এলাকায় সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের প্রবেশে বাধা না থাকলেও এবার ব্যতিক্রম। সংসদ সচিবালয় বলেছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। সেখান থেকে সাংবাদিকেরা তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মন্ত্রিসভার শপথের সময় আমন্ত্রিত ও নির্ধারিত সাংবাদিকেরা প্রবেশ করতে পারবেন।
ত্রয়োদশ সংসদের এমপিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই শপথেরও প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। -নিউজ ডেস্ক



















