(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। আকারে ছোট হলেও নতুন সরকারের শপথের দিনই ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। নতুন ও পুরোনোদের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় যেমন রয়েছে অভিজ্ঞতার ছাপ, তেমনি আছে তরুণ প্রজন্মের গতিশীলতা।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এক ঐতিহাসিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন সরকার। নতুন মন্ত্রিসভার নেতৃত্বে আছেন তারেক রহমান। তার সরকারের মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী ২৫ জন ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ২৪জন।
বিএনপি নেতা কিংবা এমপি না হয়েও মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী সমালোচনাও করেছে। ২৫ মন্ত্রীর মধ্যে নতুন মুখই বেশি। পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে মাত্র ৯ জনের। যারা বিএনপির তিন সরকারের আমলে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাকি ১৬ জন এবারই প্রথম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
অপরদিকে নতুন সরকারে আসা ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীই প্রথমবারের মতো এ দায়িত্ব পেলেন। এছাড়া ১০ জনকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রা সুন্দর হলেও সরকারের জন্য সামনের পথচলা খুব সহজ হবে না। বিশেষ করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলে স্বস্তি ফেরানোসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার শপথের পর প্রথমে নতুন সরকারের মন্ত্রী এবং পরে প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। একই সঙ্গে প্রায় দুই যুগ পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরু করল।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়। বিএনপি জোটের শরিকেরা তিনটি আসন পায়। বিকাল ৪টার কিছু পর কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তারেক রহমান নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে প্রথমে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং তারপর গোপনীয়তার শপথ নেন। সব শেষে তিনি শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভারতের লোকসভার স্পিকার শ্রী ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রী, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী ড. নালিন্দা জয়াতিষা, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী, কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-খলিফি, যুক্তরাজ্যের আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোতরা এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি দলসহ একাধিক বিদেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, তাদের মেয়ে জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাদা শার্ট ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর কয়েক মিনিট পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
শপথ নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও এমপিদের নিয়ে সরাসরি চলে যান সংসদ ভবনের কনফারেন্স রুমে। সেখানে বিভিন্ন দেশের অতিথি ও কূটনীতিকরা তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে সংক্ষেপে দেশের অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক অবস্থা তুলে ধরেন।
নতুন-পুরোনোদের মিশেলে মন্ত্রিসভা
নতুন-পুরোনোদের মিশেলে কেমন হল তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা তা নিয়ে আলোচনা এখন সর্বত্র।পুরোনো মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও নিতাই রায় চৌধুরী, আসাদুল হাবিব দুলু এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরা সবাই তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার আগের সরকারে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মির্জা ফখরুল ২০০১ সালে প্রথম ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা আমীর খসরু ২০০১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছরে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এবার মন্ত্রী হওয়ার আগে সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন একই দফতরে। কক্সবাজার-১ আসন থেকে ২০০১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।

পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত তিনবারের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছিলেন।
সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বীক্রম রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে এ পর্যন্ত সাতবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি সরকারে পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর আগে এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকারে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০২ থেকে একবছর পুনরায় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুরোনো মন্ত্রীদের মধ্যে নিতাই রায় চৌধুরী ১৯৮৮ সালে মাগুরা-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রীর মর্যাদায় মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে। এরপর তিনি ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং এরপর থেকে ওই বছর ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পতনের আগ পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
খালেদা জিয়া সরকারের আরেক মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবার তারেকের মন্ত্রিসভাতেও জায়গা পেয়েছেন। চাঁদপুর-১ আসন থেকে মোট তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ে পরীক্ষার হলে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপক অভিযান শুরু করেন। এতে সফল হলে আলোচনায় আসেন তিনি।

আসাদুল হাবিব দুলু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী এবং লালমনিরহাট সদরের প্রাক্তন সংসদ সদস্য। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপমন্ত্রী ছিলেন।
আর প্রতিমন্ত্রীর সবাই নতুন মুখ। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাদের ছিল না।
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে ছিল না জামায়াত-এনসিপি বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামি ও তাদের ১১দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি।
এদিকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রী করার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, এটা তো সরকারি দল তাদের চয়েজের মানুষ নিয়েছে। তবে আমরা এটাকে ফেয়ার মনে করি না। যারা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের পার্ট ছিলেন, তারা আবার একটা রাজনৈতিক গভর্নমেন্টের অংশ হবেন। তাহলে তারা কতটা নিরপেক্ষ ছিলেন এবং ছিলেন না-সেই জায়গায় প্রশ্ন উঠতেই পারে।
১০ জনকে তারেক রহমানের উপদেষ্টা নিয়োগ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে।
সরকারের সামনে যত চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই উৎসবমুখর সূচনার পথ মোটেও সহজ হবে না। সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বিশেষ করে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় মিত্র দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আসা সমালোচনা এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখা হবে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য এক বড় পরীক্ষা। এছাড়াও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো কত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই নতুন মন্ত্রিসভার সাফল্য।
যা বললেন নতুন মন্ত্রীরা
নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনাসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সততার সঙ্গে কাজ করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে চাই।’
আরেক প্রতিমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘১৭ বছর পর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমাদের সংসদে পাঠিয়েছে। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন এই ভোটের সম্মান রাখতে হবে। যতই চ্যালেঞ্জ আসুক আমরা সম্মিলিতভাবে তা সমাধান করব।’

এদিকে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করলেও মন্ত্রিসভায় তুলনামূলক দলে কম সক্রিয় থাকা, এক-এগারোর সময়ে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা, সবশেষ নির্বাচনে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়া বেশ কয়েকজন ঠাঁই পেয়েছেন। যা নিয়ে খোদ দলের সংসদ সদস্যদের অনেকে সমালোচনা করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সংসদ সদস্য বলেন, যারা অতীতে বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছেন, তারা হঠাৎ দলে সক্রিয় হয়ে মন্ত্রী হলে-আমরা যারা লক্ষাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, আমাদের ক্ষেত্রে দল কতটা মূল্যায়ন করছে? -নিউজ ডেস্ক



















