দেশের আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ নিয়ে যা জানা গেল
দেশের আকাশে দেখা গেছে রহস্যময় উজ্জ্বল আলোর ঝলক। আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেশ কয়েক মিনিট এ আলো দেখা যায়। তবে এই আলো কীসের- তা নিয়ে সারাদেশের মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আলোর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পেড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ফেসবুকে ছবি দিয়ে মতামত দিচ্ছে ভিন্নরকম। কেউ বলছেন ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আলো। আবার কেউ বলছেন এটা রকেটের ধোয়া। এছাড়া কেউ কেউ এআই ব্যবহার করে এই আলো সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা শেয়ার করছে মন্তব্যের ঘরেআলোর বিষয়ে জানতে চাইলে রাত ৯টার দিকে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক এনটিভি অনলাইকে বলেন, আলোর এই ছবি ও ভিডিও আমিও দেখেছি। তবে আলোর উৎস সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আর বিষয়টি আবহাওয়া সম্পর্কিত নয়। তাই আলোর উৎস বা আলোর কারণ সম্পর্কে জানতে সময় লাগছে।এদিকে ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকার ওয়েবসাইটেও সেখান থেকে এই উজ্জ্বল আলো দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ভারতীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা বেজে ৫০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে আকাশের পূর্ব দিকে দেখা গিয়েছে ওই আলো। তারা আরও জানিয়েছেন, ওই আলো মিনিট খানেক স্থায়ী ছিল আকাশে। তা দেখতে ছিল কিছুটা সার্চলাইটের মতো। আলোটিকে একটি নির্দিষ্ট গতিপথে ছুটতেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন অনেকে। বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে ওই আলোটিকে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, ওই আলো চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো ছিল না। তবে সেই আলো ছিল বেশ স্পষ্টও।জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তীর মতে, এই আলোর তিনটি কারণ থাকতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমত এই আলো উল্কাপাতের কারণে হতে পারে। এখন উল্কাবৃ্ষ্টি হচ্ছে। তবে সেটা সন্ধ্যা নয়, রাত ১২টার দিকে হয়। কিন্তু, এটা দেখে মনে হচ্ছে আলোর আকার কিছুটা বড়। এটা যে জেমিনিড শাওয়ার নয় সে ব্যাপারে নিশ্চিত।জ্যেতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ বলেন, ‘এটা রকেটের কোনও অংশ হতে পারে।’ তিনি জানিয়েছেন, আলোটি বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, কোনো রকেটের জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়েছে। তারই একটি ছোট অংশ পৃথিবীর দিকে আসছে। সেই অংশটি আকারে ছোট বলেই তার আলো তত উজ্জ্বল।’ তৃতীয় সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, ‘কোনো জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়ে থাকতে পারে। তারও আলো হতে পারে এটা। ক্ষেপণাস্ত্র হলে সে ক্ষেত্রে আলো দিকচক্রবালে মিলিয়ে যাওয়ার আগে অনেক বেশিক্ষণ ধরে দেখা যাওয়ার কথা।’ ফলে আলোর উৎস ঘিরে রহস্য থাকছে বলেই সন্দীপের মত। তিনি আরও জানান, এই আলো মিলিয়ে যাওয়া তখনই সম্ভব যখন ক্ষেপণাস্ত্র ধীরে ধীরে আমাদের দৃষ্টিপথের বাইরে চলে যায়।
১ ঘন্টা আগে