দেশের রাজনীতিতে হানাহানি ও সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি ও সমঝোতার পরিবেশ দেখতে চান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক সংঘাত পরিহার করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে এসে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে দেশে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে। তবে তিনি এখন আর মারামারি, সংঘাত ও খুনোখুনি দেখতে চান না। দেশের রাজনীতিতে শান্তি ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকারও করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে নিজের জীবনের বিনিময়েও দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদক ও নানা ধরনের অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ বাড়াতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি জেলার মানুষকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্যও আহ্বান জানান তিনি।নিজ জেলায় রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ছবি: সংগ্রহীতনিজ জেলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের এই মাটির সঙ্গে তাঁর জীবনের সবকিছু জড়িয়ে আছে। জেলার মানুষের ভালোবাসার ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ জেলায় প্রথম সফর উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মোর নাম এই নামে হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’এর আগে রোববার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছান দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তিনি।সেখান থেকে সেনুয়া পারিবারিক গোরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি। পরে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেন।সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু খাইরুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, হুইপ আখতারুজ্জামান, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ডা. মুহাম্মদ শহীদ উজ জামান।