কিছু অধ্যাদেশ হুবহু, কিছু সংশোধন করে সংসদে পাস হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশের কিছু হুবহু গ্রহণ করা হবে এবং কিছু সংশোধন করে সংসদে পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আলোচনা ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে এসব অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশের অধিকাংশই বর্তমান সরকার সংসদে পাস করতে পারবে। যেগুলো পাস করা সম্ভব হবে না, সেগুলো ল্যাপস হয়ে যাবে এবং পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বা জবরদস্তি করা জাতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না। তাই এসব অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংসদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানান তিনি।মানবাধিকার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো নেতার ভাষণ বাজানো বা শোনানোর কারণে কাউকে হয়রানি করা উচিত নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণকে কেন্দ্র করে যেন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি গণতান্ত্রিক মানে পৌঁছায়নি। তবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে উন্নত করার চেষ্টা চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশ শতভাগ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দায়মুক্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে ১৪০০ জনের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি ঐকমত্য রয়েছে।‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপ। ছবি: সংগৃহীতসালাহউদ্দিন বলেন, লাখ লাখ মামলা করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশে নৈরাজ্য বা প্রতিহিংসার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই সরকার পুনর্মিলনের কথা ভাবছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ কমিশনের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও একটি জাতীয় পুনর্মিলন কমিশন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় পুনর্মিলনের মাধ্যমে জাতির ঐক্য বজায় রাখা এবং দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
৩ মিনিট আগে