মঙ্গলবার , ২৬ আগস্ট ২০২৫ | ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. আইন আদালত
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. কৃষি ও কৃষাণ
  6. ক্যাম্পাস
  7. ক্রিকেট
  8. গল্প-সাহিত্য
  9. চাকুরি
  10. জাতীয়
  11. জেলার খবর
  12. টালিউড
  13. টেনিস
  14. তথ্য-প্রযুক্তি
  15. ধর্ম ও ইসলাম

বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতায় ইতিবাচক ফলের প্রত্যাশা

প্রতিবেদক
admin
আগস্ট ২৬, ২০২৫ ১২:০৬ অপরাহ্ণ

(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন অতিরিক্ত বিচারপতি মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) শপথ নিয়েছেন। এবারের বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিচার বিভাগে এর ইতিবাচক ফল প্রত্যাশা করছেন আইনজ্ঞরা।

আইনজীবীসহ সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক সরকার তাদের আনুগত্যশীলদের বিচারক পদে নিয়োগ দিয়েছে। সেই নিয়োগ নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা। তবে এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়াটা ছিল স্বচ্ছ। অনেকটা পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিচারক বাছাই করা হয়েছে। এতে মামলাজট কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা মামলার ঘানি থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি ও জেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেইলকে বলেন, এবারের বিচারক নিয়োগ খুবই ভালো হয়েছে। নিয়মিত প্র্যাকটিশনাররা আছেন নিয়োগ তালিকায়। নিয়োগে স্বচ্ছতা হয়েছে। নিয়োগে অনিয়ম হয়নি। নন প্র্যাকটিসিং ল’ইয়ার বিচারপত হিসেবে নিয়োগ পাননি।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নিয়োগের ফলে সুপ্রিম কোর্টের মামলা জট কমবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বিগত ৪৮ বছরের ইতিহাসে এবারের নিয়োগটি জুডিশিয়ারির জন্য ইতিবাচক ফল আনবে বলে মনে করি।

দুই পর্বে নতুন নিয়োগ পাওয়া ৪৮ জন অতিরিক্ত বিচারপতি বেঞ্চে প্রিজাইজিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনে এ ব্যাপারে কিছু বলা নেই। আইনগত কোনো বাধাও নেই। যেকোনো বিচারক বেঞ্চের সিনিয়র হতে পারেন। দেশে ২০১০ সালের দিকে এরকম আমরা দেখেছি। ওভারঅল খুব ভালো নিয়োগ হয়েছে। আমি আশা করি নতুন মাননীয় বিচারপতিরা জুডিশিয়ারিতে ভালো করবেন।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ও বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস কাজল ঢাকা মেইলকে বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ জনের মধ্যে আমার দুজন সহপাঠী আছেন। এছাড়া বাকিরাও, বিশেষ করে আইনজীবীদের মধ্য থেকে যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা সবাই আমার সুপরিচিত। আমার দৃষ্টিতে এটা একটা ভালো নিয়োগ হয়েছে। উনাদের অভিনন্দন। সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবেন- এই প্রত্যাশা রইল।

নতুন নিয়োগ পাওয়া বিচারকরা ন্যায়ের দণ্ড শক্তভাবে উচ্চকিত করবেন- এমন প্রত্যাশা করে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মাদ শিশির বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। যেখানে তিনি লিখেছেন- ‘নবনিযুক্ত মাননীয় অস্থায়ী বিচারপতিদের অভিনন্দন। আশা করি ন্যায়ের দণ্ড শক্তভাবে উচ্চকিত করবেন। আল্লাহই সর্বোত্তম বিচারক।’

গত বছরের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিচার বিভাগে একটি পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। এর অংশ হিসেবে বিচারক নিয়োগের বিষয়টি রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারিশমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত আইনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বেশ কিছুসংখ্যক ‘অতিরিক্ত বিচারক’ নিয়োগ দেওয়া হলো। এতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারক পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের ২৫ জন বিচারক নিয়োগের জন্য গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল এ সংক্রান্ত খসড়া চূড়ান্ত করে। ৫৯ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেয় কাউন্সিল। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ পাঠানো হয়। সেটি গতকাল (২৫ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করলে গেজেট আকারে প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়। আজ (২৬ আগস্ট) নবনিযুক্তদের শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি।

নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ অতিরিক্ত বিচারপতি হলেন— সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঞা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ, ফয়সাল হাসান আরিফ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসিব হাসান, মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবির, হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ-এ-মাওলা সোহেল, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর মো. রফিকুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান, রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।

Sopoth
নতুন বিচারপতিদের শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. পারভেজ হোসেনসহ তিনজন আইনজীবী। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ না করলে তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন। পারভেজ হোসেন বলেন, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেটদের মধ্যে সিভি জমা দিয়েছিলেন ৩০০ মতো। তার মধ্যে ডেকেছে ৫৩ জনকে। সারাদেশের জেলা জজদের মধ্য থেকে ১৩ জনকে ডাকা হয়েছে। এটাকে আমরা বলব বড় ধরনের বৈষম্য। এদের মধ্যে থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাদের ডাকা হয়েছে, যারা পাস কোর্স করেছেন তাদের ডাকা হয়নি। কোনো প্রকার গাইড লাইন ছাড়াই এটা করা হচ্ছে। লিগ্যাল নোটিশের জবাব না দিলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেব।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নানা ক্ষেত্রে সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সংক্রান্ত কমিশন বেশ কিছু সুপারিশও করেছে সরকারের কাছে। প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্য বিচারক নিয়োগে পৃথক কমিশন গঠন, দেশের সব প্রশাসনিক বিভাগে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন, জেলা পর্যায়ে বাণিজ্যিক আদালত এবং উপজেলায় দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠা। এছাড়া স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস গঠনের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়।

গত ২১ জানুয়ারি ‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এর আলোকে প্রধান বিচারপতিকে চেয়ারপারসন করে সাতজনকে নিয়ে গঠিত হয় ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল।’ এরপর ২৮ মে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এরপর আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ৫৯ জনকে বাছাই করে কাউন্সিল। পরবর্তী সময়ে যাদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়অর পর গত বছরের ৮ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে ২৩ জনকে নিয়োগ দেয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপনে নতুন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এসব অতিরিক্ত বিচারকের মেয়াদ হবে শপথ নেওয়ার দিন থেকে দুই বছর।

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৮ নম্বর অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ দেন। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ৯০ জন বিচারপতি রয়েছেন এবং ৫ লাখ ৯৯ হাজার ১২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর আপিল বিভাগে ৩৪ হাজার ৯৮১টি মামলা বিচারাধীন, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। -ডেস্ক রিপোর্ট

সর্বশেষ - অর্থনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত