আব্দুস সালাম, হেড অব নিউজ (দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) দিনাজপুর সদর উপজেলার বড়ইল গ্রামে অবস্থিত চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘নর্থ হেয়ার প্রোডাক্ট বিডি কোম্পানি লিমিটেড’-এ এক রহস্যময় আতঙ্কে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কারখানা চত্বর। বুধবার সকালে আকস্মিক এই ঘটনায় হুড়োহুড়ি ও আতঙ্কে অন্তত অর্ধশত নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ১২ জনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বনকালি এলাকায় অবস্থিত চায়না কোম্পানিতে শ্রমিকরা যথারীতি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ করেই শ্রমিকদের মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে নারী ও কিশোরী শ্রমিকরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। হুড়োহুড়ি করে কারখানা থেকে বের হতে গিয়ে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অসুস্থদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রুনা খাতুন (২২), শিউলি (৪৫), রুবিনা খাতুন (৬২), গীতা রানী (৪০), নুপুর (১২), শারমিন (১৮), জান্নাতুল ফেরদৌস (২৫), রেশমা (৩৫) ও লাবনী আক্তার (১৯)-সহ আরও কয়েকজন। আহতদের স্বজনরা কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক রবিউল ইসলাম জানান, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এক ধরনের তীব্র আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে। এই আতঙ্কের প্রভাবে অনেকেরই প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। তবে বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত।
এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আলিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঠিক কী কারণে শ্রমিকদের মধ্যে এই ভীতির সৃষ্টি হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি।
হাজারো শ্রমিকের নিরাপত্তা ও এমন লঙ্কাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলতে নারাজ চীনা এই কোম্পানিটির কর্মকর্তারা। সাংবাদিকরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারখানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশের কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।



















