দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে কোন দেশের কী প্রতিক্রিয়া

শনিবার সকাল থেকে যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন শহরে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহারাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো—রাশিয়া  ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান আড়াল করতে পরমাণু আলোচনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন।[TECHTARANGA-POST:115]শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মেদভেদেভ বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী আবারও তার আসল চেহারা দেখাল’। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মেদভেদেভ আরও অভিযোগ করেন, ‘ইরানের সঙ্গে সব আলোচনা ছিল কেবল ঢাল। কারও কোনো সন্দেহ ছিল না, কারও কোনো কিছুর সঙ্গে একমত হওয়ার প্রয়োজনও ছিল না।’অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের একটি বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা, যা এই অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য আগের মতোই প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া।পাকিস্তান ইরানের ওপর ইসরায়েল ও মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানও।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কাছ থেকে পাওয়া এক ফোন কলে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা বন্ধে উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য জরুরি কূটনীতি পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসহাক দার।[TECHTARANGA-POST:114]লেবাননইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, আমরা কাউকে দেশের নিরাপত্তা ও ঐক্যকে হুমকির মুখে ফেলে এমন কোনো অভিযানে দেশকে টেনে নিতে দেব না।’আফ্রিকান ইউনিয়নইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর উভয় পক্ষকে সংযম, জরুরি উত্তেজনা হ্রাস এবং টেকসই সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। আফ্রিকান সংস্থার প্রধান, মাহমুদ আলী ইউসুফ বলেছেন, ‘উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতাকে আরও জটিল করার ঝুঁকি তৈরি করবে, যার ফলে জ্বালানি বাজার, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার উপর গুরুতর প্রভাব পড়বে - বিশেষ করে আফ্রিকায়, যেখানে সংঘাত এবং অর্থনৈতিক চাপ তীব্র রয়ে গেছে।’ নরওয়েনরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেন, ‘ইসরায়েল এই হামলাকে প্রতিরোধমূলক আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে, কিন্তু এটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতিরোধমূলক হামলার জন্য তাৎক্ষণিক ও আসন্ন হুমকি থাকা প্রয়োজন।'ইউরোপিয়ান ইউনিয়নইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন মনে করিয়ে দেন যে ইউরোপীয়নরা ইতোমধ্যে ইরানের ‘হত্যাকারী’ শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।তিনি বলেন, ‘আমরা সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানাই। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।’ইতালিইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও। তিনি ইরানের বেসামরিক জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।উত্তেজনা কমাতে মিত্র ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।অস্ট্রেলিয়াঅস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিস এক বিবৃতিতে বলেছেন, তার দেশ সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ করতে না পারে সেই প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনের কথাও জানান তিনি।ইউক্রেনইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বর্তমান ঘটনার মূল কারণ হলো ইরানি শাসনের সহিংসতা ও দায়মুক্তি, বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের হত্যা ও দমন-পীড়ন, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।’স্পেনস্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা ‘আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত ও শত্রুতাপূর্ণ’ করে তুলছে।নেদারল্যান্ডসমধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সংযম, ত্তেজনা হ্রাস এবং সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের দেশ নেদাল্যান্ডস। এক এক্স বার্তায় ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন বলেছেন, ‘নেদারল্যান্ডস সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং আরও উত্তেজনা রোধ করার আহ্বান জানিয়েছে। এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা অপরিহার্য ‘সূত্র: ডন, আলজাজিরা

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে কোন দেশের কী প্রতিক্রিয়া