‘জুলাই বিপ্লবকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘৃণ্য অপচেষ্টা চলছে’
পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিংয়ে জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ঘৃণ্য এক অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু ভিপি ও ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেছেন। সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, একটি গোষ্ঠী জুলাইকে ব্যর্থ করে দিতে নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পতিত ফ্যাসিবাদের ফ্রেমিংয়ে জুলাই বিপ্লবকে ‘অপরাধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা চলছে।’[TECHTARANGA-POST:98]তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষ করে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিতর্কিত করা এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিলের লক্ষ্যে যে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা ও ‘কনসেন্ট’ তৈরির খেলা চলছে, তা খুবই ভয়ংকর বার্তা দেয়!’ডাকসু ভিপি লিখেছেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, কথিত পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নামে আওয়ামী পারপাস সার্ভের যে তৎপরতা চলছে, সেখানে কিছু মিডিয়া সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ থাকার দাবি করছে।’ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ফাইল ছবিসাদিক কায়েম সতর্ক করেছেন, ‘মনে রাখবেন, যদি সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাতিল কিংবা আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে বিপ্লবীদের হেনস্তা করার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হয়ে যায়, তবে সম্মুখসারির ছাত্রনেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে জামায়াত, বিএনপি, এনসিপির শীর্ষ নেতাসহ আওয়ামী বিরোধী সকল শক্তিকেই এর ভুক্তভোগী হতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বয়ং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও হুকুমের আসামি হয়ে যেতে পারেন!’সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘জুলাইকে ব্যর্থ করতে পতিত ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীদের অপপ্রয়াস বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় জীবনে বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।’২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত হয় জুলাই বিপ্লব। এই আন্দোলনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া হাজার হাজার মানুষকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করা হয়।অবশেষে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ওই বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবসান হয় তার টানা ১৬ বছরের শাসনামলের।