শুক্রবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. আইন আদালত
  3. আর্ন্তজাতিক
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. কৃষি ও কৃষাণ
  6. ক্যাম্পাস
  7. ক্রিকেট
  8. গল্প-সাহিত্য
  9. চাকুরি
  10. জাতীয়
  11. জেলার খবর
  12. টালিউড
  13. টেনিস
  14. তথ্য-প্রযুক্তি
  15. ধর্ম ও ইসলাম

হতাশায় আশার বসতি বিএনপিতে

প্রতিবেদক
admin
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪ ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ

(দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডটকম) হতাশার মাঝেই আশার বসতি স্থাপন করতে চান বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। গত বছর ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে সংঘর্ষের পর তিন মাস কঠিন সময় পার করেছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। মামলা ও নির্যাতনের ভয়ে অনেক তৃণমূল নেতা আত্মগোপনে ছিলেন। অনেকে নিজ বাসা ছেড়ে অন্যত্র  থাকা শুরু করেন।
এ অবস্থায় কর্মীরা সঠিক নির্দেশনাও পাননি। ওই সময়টায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক নেতাদের সমন্বয়হীনতাও ছিল স্পষ্ট। যথারীতি সরকার বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচন করে টানা ক্ষমতায় রয়েছে। এসব নানা কারণে তৃণমূল বিএনপি অনেকটা হতাশ।
যদিও নেতাকর্মীদের অনেকে এখনও পরিস্থিতি বদলের আশা করেন। তারা মনে করেন, সরকার আজ না হয় কাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কঠিন চাপে পড়বে। অন্যদিকে কেন্দ্র থেকেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার চেষ্টা চলছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই আন্দোলনের মধ্যে রয়েছে বিএনপি; কিন্তু গত ১৫ বছরেও সাফল্য আসেনি। এরপর আরও ৩টি নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে দুটি বর্জন করেছে বিএনপি। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারি হওয়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর জন্য সারা দেশে লিফলেট বিতরণ থেকে শুরু করে টানা হরতাল-অবরোধও করেছে দলটি। কিন্তু সেই নির্বাচনে জিতে টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ।
ভোটের আগে সংঘর্ষের মামলায় গ্রেফতার হয়ে সাড়ে তিন মাস কারাগারে থাকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
বিএনপির তথ্যমতে, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের আগে থেকে জানুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ১৮৪টিরও বেশি মামলায় ১ লাখ ৫ হাজার ৬৮৪ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এ সময়ে ২৭ হাজার ৫১৪ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে নেওয়া হয়। তবে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী কারামুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মাঠ পর্যায়ের নেতা গাজীপুর জেলার টোক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল হক রুকন বলেন, প্রথমত তৃণমূলের ওপর দিয়ে সীমাহীন ধকল গেছে। নেতাকর্মীরা অনেকেই বাড়ি ছাড়া ছিল। কেউ ঘরে ঘুমাতে পারেনি তিন মাস।
বিপর্যয় তো অনেক আছে। স্বাভাবিকভাবে কর্মীরা কিছুটা হতাশ তো বটেই। কারণ সাধারণ কর্মীরা দেখছে বারবার নয়ছয় করে এই সরকারই ক্ষমতায় থেকে যাচ্ছে। প্রশাসনের ভয়ভীতি ও স্থানীয় নানা সমীকরণের কারণে হয়তো নেতাকর্মীর পক্ষে সেভাবে মাঠে সক্রিয় হওয়া কঠিন হচ্ছে। কিন্তু কেউ দল ছেড়ে যায়নি।
তিনি বলেন, আমাদের চাঙ্গা থাকার মূল জায়গা হলো জনগণ আমাদের ডাকে অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে। এটা দেখে আমরা মনোবল ধরে রাখছি। এখন নেতৃত্বের ভূমিকা জোরালো থাকতে হবে। আমি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। আমিই যদি মাঠে না নামি; তা হলে ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা তো ঘরে বসে থাকবেই। শীর্ষ নেতাদের আরও পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা বলছেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।
ভোলার লালমোহন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বাবুল পঞ্চায়েত , কেন্দ্রমুখী অর্থাৎ ঢাকায় আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারলে কোনো লাভ নেই। এ জন্য ঢাকাকে শক্তিশালী করতে হবে। আর কর্মীরা সবই দেখছে। তারাও বাস্তবতা উপলব্ধি করছে। হতাশ নই। ১৫ বছর ধরে লড়াই করছি; লাগে আরও পাঁচ বছর করব। তবুও আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করব না। কেন্দ্র থেকে যেসব কর্মসূচি দেওয়া হয় আমরা তা পালন করি।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, মামলার জামিন নিয়ে চাপে আছি। কর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছি। জামিন না হলে আত্মগোপন থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। আর সংগঠন ও কূটনীতিকে আরও জোরদার করতে কেন্দ্রকে বলে যাচ্ছে তৃণমূল। আশা করি কেন্দ্র তা আমলে নেবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ওবায়েদ পাঠান  বলেন, দলের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে জানানো হয়েছে আগামী জুনের মধ্যেই বড় একটি পরিবর্তন আসতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই সরকার বাজেটই ঘোষণা করতে পারবে না। আর এটা যদি না হয়Ñতা হলে তৃণমূল আরও ভেঙে পড়বে। ইউনিয়ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা এখন হতাশ। তাদের সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া কিছুই করার নেই। কেন্দ্র থেকেও একই কথা বলা হচ্ছে। তবে আমরা ভেঙে পড়িনি। কারণ এই সরকারকে সিংহভাগ মানুষ চায় না।
তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বলা হয়েছে কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে।
বরিশাল দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান বলেন, আমরা হতাশ নই; সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে হবে। তৃণমূলের অনেকে জেলে। এখন প্রায় সবাই মুক্ত। রেজিম সরকারকে হটানো সহজ বিষয় নয়। দ্বাদশ নির্বাচনকে দেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
সংগঠন সুদৃঢ় করে নতুনভাবে আন্দোলন শুরু করতে হবে। রাজপথে কঠিন কর্মসূচি দিতে হবে একটু সময় নিয়ে। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা তাদের কাছে আসেনি।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক মনে করেন, তৃণমূলই বিএনপির প্রাণ। এত কিছুর পরও নেতাকর্মীরা অবিচল আছে। কেউ কেউ কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছিল। তারাও বাস্তবতা বোঝে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাতে হয়।
আমরাও চেষ্টা করছি তাদের নানাভাবে চাঙ্গা রাখতে। কারাবন্দির সংখ্যা কমলেও মামলা কিন্তু অনেক। হাইকোর্টে প্রতি সকালে গেলে দেখা যাবে হাজার হাজার নেতাকর্মীর লাইন। কেন্দ্রীয় নেতারা মুক্তি পাচ্ছেন- নিঃসন্দেহে এটা তৃণমূলে স্বস্তি দেবে।
তিনি জানান, এখনও তাদের সশরীরে সাংগঠনিক বৈঠক হয়নি। দলীয় ফোরামে তৃণমূলের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতারা আশ্বস্ত করছেন সংগঠনকে ঢেলে সাজাবেন। যদিও এটি তাদের এখতিয়ার। উপজেলা নির্বাচন নিয়েও এখনও কেন্দ্র থেকে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। -নিউজ ডেস্ক

সর্বশেষ - ক্যাম্পাস