দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা সেই শিশুটি মারা গেছে



মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা সেই শিশুটি মারা গেছে

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তার (১১) শেষ পর্যন্ত হার মেনেছে মৃত্যুর কাছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তাসলিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে গোলাগুলির সময় ছুটে আসা একটি গুলি লাগে রেশমীর বাম চোখে। গুলিটি চোখ ভেদ করে মাথায় ঢুকে যায়। ঘটনার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন রাতে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে চমেকে আইসিইউ শয্যা খালি হলে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি রেশমীর বাম চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিয়াজ-সাবেরা দম্পতির দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে রেশমী সবার ছোট। এক মেয়ে বিবাহিত, বড় ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করেন। রেশমী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। স্বভাবগতভাবে সে চঞ্চল ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরেই সময় কাটত তার। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেত না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার দিন ২০ টাকা হাতে দিয়ে রেশমীকে পান আনতে পাঠিয়েছিলেন তার মা। কিন্তু গুলিবর্ষণের কারণে সে আর দোকানে পৌঁছাতে পারেনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলে। আশপাশের লোকজন ভয়ে সরে গেলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি। এদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাজু  (২৪) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

রেশমি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ৯ মে সকালে রেশমির মা সখিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে। ওই ঘটনায় নিহত নাসিরের মেয়ে লাভলী আক্তার হাসান রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। নাসির প্রবাসফেরত ও যুবদলের কর্মী ছিলেন। পরে তার সহযোগীরা কয়েকজন সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে নগরে আসে বলে জানা যায়। তাদের ছোড়া গুলিতেই আহত হয় রেশমী।

গত ৮ মে রাতে হাসপাতালে রেশমিকে দেখতে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।’

বিষয় : মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা সেই শিশুটি মারা গেছে

আপনার মতামত লিখুন

দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা সেই শিশুটি মারা গেছে

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তার (১১) শেষ পর্যন্ত হার মেনেছে মৃত্যুর কাছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তাসলিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে গোলাগুলির সময় ছুটে আসা একটি গুলি লাগে রেশমীর বাম চোখে। গুলিটি চোখ ভেদ করে মাথায় ঢুকে যায়। ঘটনার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন রাতে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে চমেকে আইসিইউ শয্যা খালি হলে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি রেশমীর বাম চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিয়াজ-সাবেরা দম্পতির দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে রেশমী সবার ছোট। এক মেয়ে বিবাহিত, বড় ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করেন। রেশমী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। স্বভাবগতভাবে সে চঞ্চল ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরেই সময় কাটত তার। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেত না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার দিন ২০ টাকা হাতে দিয়ে রেশমীকে পান আনতে পাঠিয়েছিলেন তার মা। কিন্তু গুলিবর্ষণের কারণে সে আর দোকানে পৌঁছাতে পারেনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলে। আশপাশের লোকজন ভয়ে সরে গেলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি। এদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাজু  (২৪) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

রেশমি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ৯ মে সকালে রেশমির মা সখিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে। ওই ঘটনায় নিহত নাসিরের মেয়ে লাভলী আক্তার হাসান রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। নাসির প্রবাসফেরত ও যুবদলের কর্মী ছিলেন। পরে তার সহযোগীরা কয়েকজন সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে নগরে আসে বলে জানা যায়। তাদের ছোড়া গুলিতেই আহত হয় রেশমী।

গত ৮ মে রাতে হাসপাতালে রেশমিকে দেখতে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।’


দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: শাহ্ আলম নূর আকাশ (8801715412204)
বার্তা সম্পাদক: মো: নুরুল হুদা দুলাল (8801715803963)
হেড অব নিউজ: আব্দুস সালাম (8801721460008) 
আইন উপদেষ্টা: অ্যাড. সারওয়ার আহমেদ বাবু (8801318071980)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম