ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

জালিয়াত সামাদের খপ্পরে সর্বস্বান্ত গ্রামবাসী: প্রতিবাদ করায় এনসিপি নেতাসহ ৫ জন কারাগারে

দিনাজপুরে জাল দলিল ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানির খলনায়ক আব্দুস সামাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গেছেন এনসিপি নেতা আরিফ মুনসহ ৫ জন। রাজনৈতিক চাপ ও একটি বিশেষ মহলের ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে সাজানো মামলায় তাদের জেলহাজতে প্রেরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী দরবারপুর গ্রামবাসী।​বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়। সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী আকলিমা বেগম।​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামে তাদের দাদাশ্বশুরের নামে ৫০ শতক পৈতৃক জায়গা রয়েছে। জায়গাটি দীর্ঘদিন তাদের দখলে না থাকায় স্থানীয় প্রতারক আব্দুস সামাদ সেটেলমেন্ট অফিসারের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের দোহাই দেয়। সমস্ত কাগজপত্র ও দলিল ঠিকঠাক করে দেওয়ার নাম করে সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আকলিমা বেগমের পরিবারের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সামাদ।​টাকা নেওয়ার পর সামাদের কথামতো ওই জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন তারা। কিন্তু পরবর্তীতে দিনাজপুর সেটেলমেন্ট অফিসের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত সিএস নং-৩২১ খতিয়ানের যে কাগজপত্র সামাদ তাদের সরবরাহ করেছিল, তা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল দলিল।​আকলিমা বেগম জানান, জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর সামাদের কাছে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ফেরত চাইলে সে নানা টালবাহানা ও হুমকি-ধমকি শুরু করে। উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি উপজেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক আজমির হোসেনকে অবগত করেন।​টাকা উদ্ধারের সামাজিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৫ জুলাই এনসিপি নেতা ও যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন শহরের লিলি মোড় এলাকায় আব্দুস সামাদের মুখোমুখি হন এবং পাওনা টাকা ফেরত চান। এ সময় প্রতারক সামাদ বেগতিক দেখে কৌশলে তার ছেলে মামুনকে ফোন দেয়। মামুন তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ বড়মাঠ এলাকা থেকে আরিফ মুন, আজমির হোসেন, মোঃ হাসিন ইশরাক মিমসহ ৫ জনকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়।​আকলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতি ও ‘মব’ সৃষ্টি করে। প্রশাসনের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আব্দুস সামাদের ছেলে মামুনের দায়ের করা একটি সম্পূর্ণ সাজানো ও কাল্পনিক মামলায় আরিফ মুনসহ ৫ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সামাদকে অপহরণ বা তার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়নি। পুরো ঘটনাটি জালিয়াতি আড়াল করার অপকৌশল।​সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সুন্দরপুর ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের মমতাজ বেগম, মোছাম্মৎ ঋতু, জবা খাতুন, সুরমা এবং মাহবুমা আকতার রুনীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাদের জেলে পাঠানো হয়েছে সবাই সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান এবং উচ্চ শিক্ষিত। তারা কোনো অপরাধ করেননি, বরং একজন চিহ্নিত জালিয়াতিবাজের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।​গ্রামবাসী অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসন ও বিজ্ঞ আদালতের কাছে এই মিথ্যা মামলার নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচন এবং বন্দি ৫ জনের ন্যায়বিচারের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলন শেষে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দরবারপুর গ্রামের কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে অবিলম্বে আরিফ মুনসহ ৫ জনের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

জালিয়াত সামাদের খপ্পরে সর্বস্বান্ত গ্রামবাসী: প্রতিবাদ করায় এনসিপি নেতাসহ ৫ জন কারাগারে