মোদি সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ককরোচ পার্টির
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।শুক্রবার (২৪ জুলাই) নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠক শেষে এই চূড়ান্ত ঘোষণা দেন সিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। [TECHTARANGA-POST:603]এনডিটিভি জানিয়েছে, সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যকার এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে সরকারি পক্ষে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। আন্দোলনকারীদের পক্ষে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আলোচনায় অংশ নেন।বৈঠক থেবে বেড়িয়ে আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আমাদের প্রধান ৩টি দাবির মধ্যে ২টিতে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বা নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব পুলিশি মামলা প্রত্যাহার করা। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরকার আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার শীঘ্রই তাকে অপসারণ করবে’। সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বা বহিস্কারের বিষয়টি তাদের জন্য ‘আপসহীন’ দাবি। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে তারা সরকারকে আগামীকাল শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হযেছে। তিনি আরও জানান, ‘সরকারের অনুরোধে এবং ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামের কারণে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান অবস্থান কর্মসূচি শনিবার দুপুর পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে সিজেপি। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত না এলে দেশব্যাপী আরও তীব্র ও কঠোর রাজপথ স্তব্ধকারী আন্দোলন শুরু হবে’।এদিকে বৈঠকের বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানিয়েছেন, এই সংকটজনক পরিস্থিতির সমাধান এবং বাকি দাবিটি নিয়ে আলোচনার জন্য শনিবার দুপুরেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসবে সরকার।উল্লেখ্য, মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থী ও তরুণদের এই আন্দোলন মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এরআগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দ্রুত বিচার আদালতে করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।