ফুটবল বিশ্বকাপের শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে একটি বিষয়, নামের জোরে আর ম্যাচ জেতা যাচ্ছে না। বিশ্বের বড় বড় দলগুলো যখন প্রত্যাশার চাপ নিয়ে মাঠে নামছে, তখন অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে সাহস, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় স্পেন ও কেপ ভার্দের ম্যাচটি যেন সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেন পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে নিজেদের রক্ষণভাগকে এমনভাবে সাজিয়েছিল যে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
ম্যাচটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। বয়স চল্লিশ হলেও তার পারফরম্যান্সে ছিল না ক্লান্তির কোনো ছাপ। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি দলকে এনে দেন মূল্যবান একটি পয়েন্ট, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এই ড্র শুধু একটি ফলাফল নয়; এটি বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহের বড় একটি প্রবণতার অংশ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি ম্যাচে দেখা গেছে ফেভারিট দলগুলোকে চাপে ফেলছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বলে বিবেচিত প্রতিপক্ষরা।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় কাতার ১-১। উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পয়েন্ট আদায় করে নেয় সৌদি আরব। ব্রাজিল ও মরক্কোর লড়াইও শেষ হয় অমীমাংসিতভাবে ১-১ গোলে। একইভাবে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও কানাডার মতো দলগুলোও প্রত্যাশিত ফল পায়নি। সব ম্যাচেই ড্র দিয়ে শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত এগুলো।
বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ফরম্যাট এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। নতুন দেশগুলো শুধু অংশগ্রহণের জন্য আসেনি; তারা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে এসেছে। আধুনিক ফুটবলে সুসংগঠিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল অনেক বড় দলকেও বিপদে ফেলতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আয়োজক দেশগুলোর ভৌগোলিক বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে দীর্ঘ ভ্রমণ, ভিন্ন আবহাওয়া এবং সময়ের ব্যবধান অনেক দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে। ফলে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে অপ্রত্যাশিত ফল দেখা যাওয়াটা খুব একটা বিস্ময়ের নয়।
তবে ইতিহাস বলছে, শুরুটা নিখুঁত না হলেও শেষটা সফল হতে পারে। অতীতে অনেক চ্যাম্পিয়ন দলই গ্রুপপর্বে হোঁচট খেয়েও ট্রফি জিতেছে। তাই বড় দলগুলোর সামনে এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তারপরও বিশ্বকাপের প্রথম কয়েক দিন একটি সুন্দর বার্তা দিয়ে গেছে। ফুটবল শুধু অর্থ, তারকা কিংবা র্যাঙ্কিংয়ের খেলা নয়; এটি বিশ্বাস, পরিশ্রম এবং সুযোগ কাজে লাগানোরও গল্প। কেপ ভার্দের মতো একটি ছোট দেশ যখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলকে থামিয়ে দেয়, তখন ফুটবল আরও বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে একটি বিষয়, নামের জোরে আর ম্যাচ জেতা যাচ্ছে না। বিশ্বের বড় বড় দলগুলো যখন প্রত্যাশার চাপ নিয়ে মাঠে নামছে, তখন অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে সাহস, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় স্পেন ও কেপ ভার্দের ম্যাচটি যেন সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেন পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে নিজেদের রক্ষণভাগকে এমনভাবে সাজিয়েছিল যে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
ম্যাচটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। বয়স চল্লিশ হলেও তার পারফরম্যান্সে ছিল না ক্লান্তির কোনো ছাপ। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি দলকে এনে দেন মূল্যবান একটি পয়েন্ট, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এই ড্র শুধু একটি ফলাফল নয়; এটি বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহের বড় একটি প্রবণতার অংশ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি ম্যাচে দেখা গেছে ফেভারিট দলগুলোকে চাপে ফেলছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বলে বিবেচিত প্রতিপক্ষরা।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় কাতার ১-১। উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পয়েন্ট আদায় করে নেয় সৌদি আরব। ব্রাজিল ও মরক্কোর লড়াইও শেষ হয় অমীমাংসিতভাবে ১-১ গোলে। একইভাবে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও কানাডার মতো দলগুলোও প্রত্যাশিত ফল পায়নি। সব ম্যাচেই ড্র দিয়ে শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত এগুলো।
বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ফরম্যাট এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। নতুন দেশগুলো শুধু অংশগ্রহণের জন্য আসেনি; তারা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে এসেছে। আধুনিক ফুটবলে সুসংগঠিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল অনেক বড় দলকেও বিপদে ফেলতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আয়োজক দেশগুলোর ভৌগোলিক বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো জুড়ে দীর্ঘ ভ্রমণ, ভিন্ন আবহাওয়া এবং সময়ের ব্যবধান অনেক দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে। ফলে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে অপ্রত্যাশিত ফল দেখা যাওয়াটা খুব একটা বিস্ময়ের নয়।
তবে ইতিহাস বলছে, শুরুটা নিখুঁত না হলেও শেষটা সফল হতে পারে। অতীতে অনেক চ্যাম্পিয়ন দলই গ্রুপপর্বে হোঁচট খেয়েও ট্রফি জিতেছে। তাই বড় দলগুলোর সামনে এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তারপরও বিশ্বকাপের প্রথম কয়েক দিন একটি সুন্দর বার্তা দিয়ে গেছে। ফুটবল শুধু অর্থ, তারকা কিংবা র্যাঙ্কিংয়ের খেলা নয়; এটি বিশ্বাস, পরিশ্রম এবং সুযোগ কাজে লাগানোরও গল্প। কেপ ভার্দের মতো একটি ছোট দেশ যখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলকে থামিয়ে দেয়, তখন ফুটবল আরও বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে।

আপনার মতামত লিখুন