২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের পক্ষে হাইকোর্ট রায় দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় কোটাবিরোধী আন্দোলন। পরে ওই বছরের ৪ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত না করলে সারাদেশে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মূলত এ কর্মসূচির মধ্য দিয়েই শুরু হয় রক্তাক্ত জুলাইয়ের আন্দোলন, যা টানা ৩৬ দিন ধরে চলেছিল।
যা যা ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৪ জুলাই
৪ জুলাই সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে মিছিল বের করে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেদিন রাজধানীতে বৃষ্টি হলেও তা উপেক্ষা করে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় শাহবাগ অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শাহবাগ।
একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগ ও নতুন কর্মসূচি
কোটা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুলতবি শুনানিতে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দেন। এ আদেশের ফলে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে।
এর পরপরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। ৫ জুলাই (শুক্রবার) সারাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ও অফলাইনে জনসংযোগ ও সমন্বয়, ৬ জুলাই (শনিবার) দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং ৭ জুলাই (রোববার) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে ছাত্র ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহাল এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, ৬ জুলাইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ৭ জুলাইয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে।
৪ জুলাই থেকেই আন্দোলনের কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় প্রতিটি ব্যাচ ৪ ও ৫ জুলাইয়ের মধ্যে পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
দীর্ঘ ৩৬ দিনের রক্তক্ষয়ী জুলাই আন্দোলনে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৮৪৪ জন নিহত হন। তবে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ছিল অন্তত ১ হাজার ৪০০। এ আন্দোলনে অন্তত ২০ হাজার মানুষ আহত এবং ১৪ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হন।

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের পক্ষে হাইকোর্ট রায় দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় কোটাবিরোধী আন্দোলন। পরে ওই বছরের ৪ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত না করলে সারাদেশে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মূলত এ কর্মসূচির মধ্য দিয়েই শুরু হয় রক্তাক্ত জুলাইয়ের আন্দোলন, যা টানা ৩৬ দিন ধরে চলেছিল।
যা যা ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৪ জুলাই
৪ জুলাই সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে মিছিল বের করে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেদিন রাজধানীতে বৃষ্টি হলেও তা উপেক্ষা করে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় শাহবাগ অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শাহবাগ।
একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগ ও নতুন কর্মসূচি
কোটা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুলতবি শুনানিতে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দেন। এ আদেশের ফলে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে।
এর পরপরই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। ৫ জুলাই (শুক্রবার) সারাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ও অফলাইনে জনসংযোগ ও সমন্বয়, ৬ জুলাই (শনিবার) দেশব্যাপী বিক্ষোভ এবং ৭ জুলাই (রোববার) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে ছাত্র ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহাল এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, ৬ জুলাইয়ের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ৭ জুলাইয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে।
৪ জুলাই থেকেই আন্দোলনের কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় প্রতিটি ব্যাচ ৪ ও ৫ জুলাইয়ের মধ্যে পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
দীর্ঘ ৩৬ দিনের রক্তক্ষয়ী জুলাই আন্দোলনে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৮৪৪ জন নিহত হন। তবে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ছিল অন্তত ১ হাজার ৪০০। এ আন্দোলনে অন্তত ২০ হাজার মানুষ আহত এবং ১৪ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হন।

আপনার মতামত লিখুন