ঢাকা    রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা    রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

দিনাজপুরে সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন জালিয়াতির অভিযোগ

সিআইডি কর্মকর্তা নিজেই তৈরি করলেন অস্তিত্বহীন সিআর মামলা! নথিপত্রে নানামুখী অমিল



সিআইডি কর্মকর্তা নিজেই তৈরি করলেন   অস্তিত্বহীন সিআর মামলা! নথিপত্রে নানামুখী অমিল

দিনাজপুরে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। যা ইতোমধ্যে জেলা দিনাজপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদরে জমা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শহরে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। উক্ত সম্পর্শকাতর জাতিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়লে দিনাজপুর জেলা সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নোটিশকারী এবং তদন্ত কর্মকর্তা মো: ওসমান গনিকে সাংবাদিকরা বারবার মুঠোফোন কল করলে তা কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ রাখেন এবং সেদিন অফিসে তাকে পাওয়া যায়নি।    

ঘটনার প্রকাশ, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬০ ধারা মোতাবেক সূত্র দিনাজপুর জেলার সিআর মামলা নং-৪৮৯/২০২৪, ধারা-৪৬৫/৪৬৮/৪৬৯/৪৭১ পেনাল কোর্ড, বিষয়: বিবাহ সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হাজির হতে বলেন দিনাজপুর জেলা সিআইডির উপ-পরিচালক (নিরস্ত্র) মো: ওসমান গনি। তিনজনের বিরুদ্ধে নোটিশ তিনি প্রদান করেন। যথাক্রমে ০১। দিনাজপুর সদর রেলওয়ে কলোনীর আব্দুস সামাদের ছেলে মো: আজাদ হোসেন ০২। অর্জুনপুর সদর, দিনাজপুরের মো: বাবর আলীর পুত্র মো: খাইরুল ইসলাম ০৩। বাহাদুর বাজার, দিনাজপুর সাব্বির আহমেদ এর পুত্র মো: শাহ আলমকে লিখিত নোটিশের গত ০৮/০৪/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে ১৬/০৪/২০২৫ তারিখে দিনাজপুর জেলা সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বুধবার সকাল ১০টায় ৩নং উপশহর দিনাজপুরে হাজির হতে বলে অনুরোধ জানান। 

বিবাদীদের অভিযোগ, বিবাদী তিন জন ব্যক্তি পর্যায়ক্রমে একে একে গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিবাহ সংক্রান্ত অভিযোগ বিষয়ে কোন কথা না বলেই বাদীর নাম না জানিয়ে বলে আমবাড়ি, চিরিরবন্দর, দিনাজপুরের ছাদিকুলের চেক স্ট্যাম্পগুলো কোথায়? সেগুলো আমাকে বা ছাদিকুলকে ফেরত না দিলে তোমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়ে দিব বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ৭২ ঘন্টার সময় দিয়ে সকলের নিকট এনআইডির ফটোকপি জমা নেয়। আনঅফিয়ালি তাদের কয়েকবার ডেকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং আপোষ-মীমাংসা করে নিতে বলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

বিষয়টি পরবর্তীতে সাংবাদিকরা জানলে, সিআইডি কর্মকর্তা ওসমান গনি কোন সদউত্তর দিতে পারেননি। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলো আপনি কেন আপনার সরকারি প্যাডের পাতায় বিবাদীর ডাকলেন না, আপনার নোটিশে কেন কোন সরকারি সিল নেই, আপনি কেন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করলেন না ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ পাঠিয়ে কাগজের উল্টো পৃষ্টায় নোটিশ রিসিভ করালেন বলতেই তিনি নিরব ছিলেন এবং কোন উত্তর দেননি। 

সাংবাদিক মহল উক্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬০ ধারা মোতাবেক সূত্র দিনাজপুর জেলার সিআর মামলা নং-৪৮৯/২০২৪, ধারা-৪৬৫/৪৬৮/৪৬৯/৪৭১ পেনাল কোড দিনাজপুর জেলা জজকোর্টে সিআর মামলা নং-৪৮৯/২০২৪ কোন আলমত পাননি। এই সিআর মামলা সম্পূর্ণ ভূয়া। এই সিআর মামলা নং-৪৮৯/২০২৪ নামে কোনো ব্যক্তির নামে মামলা নেই। মামলা নম্বরটিও ভূয়া এবং জাল। 

ঘটনার শেষ এখানেই নয়। দিনাজপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদরে সিআইডি কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো: ওসমান গনি (নিরস্ত্র) সিআর মামলা নং- ৪৮৯/২০২৪ বাদ দিয়ে নতুন আরেকটি মামলা যার নং সিআর-১২২৮/২০২৪ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন যার সাথে মামলার কোন মিল নেই। 

সাংবাদিকের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য : স্বাক্ষীরা চেনে না বাদীকে

সাংবাদিকরা সরেজমিন এবং মুঠোফোনে সাক্ষাৎকার নিলে দিনাজপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদরে সিআর মামলা-১২২৮/২০২৪ এ সিআইডি, দিনাজপুর কর্তৃক যে ৬জন মামলায় স্বাক্ষীদের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে তার সাথে মামলার বিবরণের সাথে কোন মিল নেই। সাংবাদিকদের সরেজমিন প্রতিবেদন এবং মুঠোফোনে রেকর্ডকৃত কলরেকর্ডে জানা যায়, এই মামলার স্বাক্ষী যথাক্রমে- সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, দিনাজপুর জেলার মৃত কাইয়ুম মোল্লার পুত্র মোঃ কামরুল হাসান (৫৬), পাটুল, চিরিরবন্দর উপজেলা, দিনাজপুর মোঃ রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র মোঃ এজাজুল হক (৫৮), তের আনিয়া পার্বতীপুর উপজেলা, জেলা দিনাজপুর এর মৃত মজির উদ্দীনের পুত্র মোঃ ফজলুর রহমান (৫৬) গোবিন্দপুর সরকার পাড়া, চিরিরবন্দর উপজেলা দিনাজপুর জেলার মৃত জহুরুল ইসলামের পুত্র মোঃ বাবু হাসান (৪৭), বড়গ হরিপুর সরকার (মায়েরা), চিরিরবন্দর উপজেলা, জেলা-দিনাজপুর এর মোঃ আঃ সামাদের পুত্র মোঃ সামিউল (৩৫), বালুপাড়া, পার্বতীপুর উপজেলা, জেলা-দিনাজপুরের মৃত আব্বাছ এর পুত্র মোঃ হাসিনুর (৪০) কয়েকজন স্বাক্ষীদের সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করলে, বাদী ছাদিকুল ইসলামকে চেনেন না বলে জানান। তার সাথে তাদের কোন সম্পর্কও নেই। সিআর মামলা-১২২৮/২০২৪ বাদী এবং সিআইডি কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন সেখানে বলা হয়েছে বিবাদীরা আমবাড়ী চিরিরবন্দর, দিনাজপুরে চেক-স্ট্যাম্প আদান-প্রদান করেছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের কয়েকজন স্বাক্ষীরা জানান, মোঃ ছাদিকুল ইসলামের সাথে চাকুরি সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদী আজাদ, খাইরুল এবং শাহআলমের সাথে কয়েক লক্ষ টাকা লেনদেন করেছেন। অথচ মামলায় ও সিআইডি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে চেক-স্ট্যাম্প আদান-প্রদান করা হয়েছে। কোন অর্থ বা টাকা আদান-প্রদান করা হয়নি। এতে করে বোঝাই যাচ্ছে স্বাক্ষীরা কিছুই জানেন না। বাদী ছাদিকুল ইসলাম মিথ্যা সাক্ষী সাজিয়েছেন। তারা সবাই নিজেরাই নিজেদের নিকটআত্মীয়। 

উক্ত মামলার স্বাক্ষী মোঃ কামরুল হাসান বাদীর শ্বশুর মোঃ এজাজুল হক বাদীর জন্মদাতা পিতা, মোঃ ফজলুর রহমান বাদীর চাচা শ্বশুর, মোঃ বাবু হাসান বাদীর চাচা, মোঃ সামিউল বাদীর মামা, মোঃ হাসিনুর বাদীর চাচা শ্বশুর। সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে আরো উঠে আসে উক্ত ঘটনা কোথায় ঠিক ঘটেছে স্বাক্ষীরা তা বলতে পারেননি। যা সাংবাদিকের রেকর্ডকৃত কলরেকর্ডে চাঞ্চল্যেকর তথ্য উঠে এসেছে। 

সাংবাদিকরা বাদী এবং স্বাক্ষীদের প্রশ্ন করে, আপনার চাকুরি হয়নি চেক-স্ট্যাম্প আপনাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে। আপনারা কি আপনাদের স্থানীয় প্রতিনিধি যেমন চেয়ারম্যান/ মেম্বারদের/ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিকে কেন লিখিত অভিযোগ করেননি, চিরিরবন্দর থানা, দিনাজপুরে কেন লিখিত অভিযোগ বা জিডি করেননি। কেন আপনারা তখন আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি। 

এদিকে বিবাদী মোঃ শাহ আলম কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমি গত ০৫/০৫/২০২৪ এবং তারিখে নিগোশ্যাবল ইন্সট্রমেন্ট এ্যাক্ট (সংশোধিত ২০০৬) এর ১৩৮ ধারায় গত ১৯/১২/২০২৪ ইং  মোকদ্দমা নং-১২৮৯ সি/২০২৪ তারিখে পাটুল, আমবাড়ী, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর এজাজুল হকের পুত্র মোঃ ছাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা দিনাজপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত, সদর, দিনাজপুরে ২০ লক্ষ টাকার জমি কেনা বায়না বাবদ চেক ডিসঅনার মামলা করি। মামলাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য চতুর এবং প্রতারক ছাদিকুল ইসলাম আমার বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারায় একটি মিথ্যা মামলা করেন এবং দিনাজপুর সিআইডিকে ম্যানেজ করে নিজের পক্ষে রিপোর্ট করিয়ে নেয়। যা সম্পূর্ণ বে-আইনী। ছাদিকুল ইসলাম গত ১০/১২/২০২৪ একটি ১৩৮ ধারায় ১২২৮/২০২৪ চেক ডিসঅনারের বিরুদ্ধে ৩জনকে মামলার আসামী করে একটি মামলা করেন। 

সাংবাদিকররা ছাদিকুল ইসলামকে প্রশ্ন করাকালে চাকুরির জন্য বাংলাদেশ রেলওয়েতে ওয়েম্যান পদে কবে আবেদন করেছেন? তিনি বলেন গত ১৭ জানুয়ারি’২০২৩ ইং তারিখে। ওয়েম্যানের রেজাল্ট কবে প্রকাশিত হয়। তিনি জানান, ১৭ জুন’২০২৩ এমসিকিউ এবং চূড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশিত হয় ২৮ অক্টোবর-২০২৩ইং তারিখে। আবার প্রশ্ন করা হলে আপনি চাকুরির জন্য আবেদন করেছেন ২০২৩ সালে তাহলে আপনি চেক-স্ট্যাম্প বিবাদীদের দিয়েছেন ২০২৪ সালে। অতঃপর আপনি চেক-স্ট্যাম্পের মামলা করলেন ২০২৪ কেন? তাছাড়া মানুষ চাকুরির আগে টাকা কিংবা চেক স্ট্যাম্প লেনদেন করে। আপনি চাকুরির পরে চেক স্ট্যাম্প দিয়েছেন?  তিনি এই বিষয়ে আর কোন উত্তর দিতে ব্যর্থ হন।  

সিআইডি রিপোর্টে ২০২৪ সালের ১৫ মে রাত আনুমানিক ৮ টায় দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ীতে বিবাদীদের বাকবিত-ার কথা বলা হলেও, রেলওয়ের ডিউটি শিট (গ্যাং নং-৩ কেপি) অনুযায়ী উক্ত সময়ে আজাদ হোসেন কি: মি: ৪২৭/০-৪৩৪/০ সেকশনে অন-ডিউটিতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রধান চারজন সাক্ষীই ছাদিকুল ইসলামের পিতা, শ্বশুর, মামা, চাচা ও ভায়রাসহ তার নিকটাত্মীয়।

সরেজিমনে প্রতিবেদনে জানা গেছে, দিনাজপুর সিআইডি কর্মকর্তা মোঃ ওসমান গনি তিনি অফিসে বসেই সকল তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। কারণ হিসেবে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে দিনাজপুরে প্রধান আসামী আজাদ হোসেনের অফিসে কোন সিআইডি কর্মকর্তা যাননি এবং কোন রেল কর্মকর্তার বক্তব্যও নেননি ও আজাদের চাকুরি পদবি ছিল মেট কিন্তু সিআইডি কর্মকর্তা তাঁকে ওয়েম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

সচেতন মহলের দাবী, স্পর্শকাতর আদালতের সিআর মামলার জালিয়াতি, সিআইডি কর্মকর্তার সরেজমিনে না গিয়ে অফিসে বসেই মনগড়া প্রতিবেদন প্রদানসহ নানাবিধ সরকারি নথিপত্রে অমিল মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে হয়েছে কিনা তা যাচাই এবং সিআইডি কর্মকর্তার অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান ভুক্তভোগীরা ।  

বিষয় : সিআইডি কর্মকর্তা নিজেই তৈরি করলেন অস্তিত্বহীন সিআর মামলা! নথিপত্রে নানামুখী অমিল

আপনার মতামত লিখুন

দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


সিআইডি কর্মকর্তা নিজেই তৈরি করলেন অস্তিত্বহীন সিআর মামলা! নথিপত্রে নানামুখী অমিল

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। যা ইতোমধ্যে জেলা দিনাজপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদরে জমা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শহরে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। উক্ত সম্পর্শকাতর জাতিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়লে দিনাজপুর জেলা সিআইডির উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নোটিশকারী এবং তদন্ত কর্মকর্তা মো: ওসমান গনিকে সাংবাদিকরা বারবার মুঠোফোন কল করলে তা কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ রাখেন এবং সেদিন অফিসে তাকে পাওয়া যায়নি।    

ঘটনার প্রকাশ, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬০ ধারা মোতাবেক সূত্র দিনাজপুর জেলার সিআর মামলা নং-৪৮৯/২০২৪, ধারা-৪৬৫/৪৬৮/৪৬৯/৪৭১ পেনাল কোর্ড, বিষয়: বিবাহ সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ হাজির হতে বলেন দিনাজপুর জেলা সিআইডির উপ-পরিচালক (নিরস্ত্র) মো: ওসমান গনি। তিনজনের বিরুদ্ধে নোটিশ তিনি প্রদান করেন। যথাক্রমে ০১। দিনাজপুর সদর রেলওয়ে কলোনীর আব্দুস সামাদের ছেলে মো: আজাদ হোসেন ০২। অর্জুনপুর সদর, দিনাজপুরের মো: বাবর আলীর পুত্র মো: খাইরুল ইসলাম ০৩। বাহাদুর বাজার, দিনাজপুর সাব্বির আহমেদ এর পুত্র মো: শাহ আলমকে লিখিত নোটিশের গত ০৮/০৪/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে ১৬/০৪/২০২৫ তারিখে দিনাজপুর জেলা সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বুধবার সকাল ১০টায় ৩নং উপশহর দিনাজপুরে হাজির হতে বলে অনুরোধ জানান। 

বিবাদীদের অভিযোগ, বিবাদী তিন জন ব্যক্তি পর্যায়ক্রমে একে একে গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিবাহ সংক্রান্ত অভিযোগ বিষয়ে কোন কথা না বলেই বাদীর নাম না জানিয়ে বলে আমবাড়ি, চিরিরবন্দর, দিনাজপুরের ছাদিকুলের চেক স্ট্যাম্পগুলো কোথায়? সেগুলো আমাকে বা ছাদিকুলকে ফেরত না দিলে তোমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়ে দিব বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ৭২ ঘন্টার সময় দিয়ে সকলের নিকট এনআইডির ফটোকপি জমা নেয়। আনঅফিয়ালি তাদের কয়েকবার ডেকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং আপোষ-মীমাংসা করে নিতে বলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

বিষয়টি পরবর্তীতে সাংবাদিকরা জানলে, সিআইডি কর্মকর্তা ওসমান গনি কোন সদউত্তর দিতে পারেননি। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলো আপনি কেন আপনার সরকারি প্যাডের পাতায় বিবাদীর ডাকলেন না, আপনার নোটিশে কেন কোন সরকারি সিল নেই, আপনি কেন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নোটিশ প্রদান করলেন না ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ পাঠিয়ে কাগজের উল্টো পৃষ্টায় নোটিশ রিসিভ করালেন বলতেই তিনি নিরব ছিলেন এবং কোন উত্তর দেননি। 

সাংবাদিক মহল উক্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬০ ধারা মোতাবেক সূত্র দিনাজপুর জেলার সিআর মামলা নং-৪৮৯/২০২৪, ধারা-৪৬৫/৪৬৮/৪৬৯/৪৭১ পেনাল কোড দিনাজপুর জেলা জজকোর্টে সিআর মামলা নং-৪৮৯/২০২৪ কোন আলমত পাননি। এই সিআর মামলা সম্পূর্ণ ভূয়া। এই সিআর মামলা নং-৪৮৯/২০২৪ নামে কোনো ব্যক্তির নামে মামলা নেই। মামলা নম্বরটিও ভূয়া এবং জাল। 

ঘটনার শেষ এখানেই নয়। দিনাজপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদরে সিআইডি কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো: ওসমান গনি (নিরস্ত্র) সিআর মামলা নং- ৪৮৯/২০২৪ বাদ দিয়ে নতুন আরেকটি মামলা যার নং সিআর-১২২৮/২০২৪ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন যার সাথে মামলার কোন মিল নেই। 

সাংবাদিকের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য : স্বাক্ষীরা চেনে না বাদীকে

সাংবাদিকরা সরেজমিন এবং মুঠোফোনে সাক্ষাৎকার নিলে দিনাজপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদরে সিআর মামলা-১২২৮/২০২৪ এ সিআইডি, দিনাজপুর কর্তৃক যে ৬জন মামলায় স্বাক্ষীদের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে তার সাথে মামলার বিবরণের সাথে কোন মিল নেই। সাংবাদিকদের সরেজমিন প্রতিবেদন এবং মুঠোফোনে রেকর্ডকৃত কলরেকর্ডে জানা যায়, এই মামলার স্বাক্ষী যথাক্রমে- সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, দিনাজপুর জেলার মৃত কাইয়ুম মোল্লার পুত্র মোঃ কামরুল হাসান (৫৬), পাটুল, চিরিরবন্দর উপজেলা, দিনাজপুর মোঃ রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র মোঃ এজাজুল হক (৫৮), তের আনিয়া পার্বতীপুর উপজেলা, জেলা দিনাজপুর এর মৃত মজির উদ্দীনের পুত্র মোঃ ফজলুর রহমান (৫৬) গোবিন্দপুর সরকার পাড়া, চিরিরবন্দর উপজেলা দিনাজপুর জেলার মৃত জহুরুল ইসলামের পুত্র মোঃ বাবু হাসান (৪৭), বড়গ হরিপুর সরকার (মায়েরা), চিরিরবন্দর উপজেলা, জেলা-দিনাজপুর এর মোঃ আঃ সামাদের পুত্র মোঃ সামিউল (৩৫), বালুপাড়া, পার্বতীপুর উপজেলা, জেলা-দিনাজপুরের মৃত আব্বাছ এর পুত্র মোঃ হাসিনুর (৪০) কয়েকজন স্বাক্ষীদের সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করলে, বাদী ছাদিকুল ইসলামকে চেনেন না বলে জানান। তার সাথে তাদের কোন সম্পর্কও নেই। সিআর মামলা-১২২৮/২০২৪ বাদী এবং সিআইডি কর্মকর্তা নিজেই বলেছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন সেখানে বলা হয়েছে বিবাদীরা আমবাড়ী চিরিরবন্দর, দিনাজপুরে চেক-স্ট্যাম্প আদান-প্রদান করেছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের কয়েকজন স্বাক্ষীরা জানান, মোঃ ছাদিকুল ইসলামের সাথে চাকুরি সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদী আজাদ, খাইরুল এবং শাহআলমের সাথে কয়েক লক্ষ টাকা লেনদেন করেছেন। অথচ মামলায় ও সিআইডি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে চেক-স্ট্যাম্প আদান-প্রদান করা হয়েছে। কোন অর্থ বা টাকা আদান-প্রদান করা হয়নি। এতে করে বোঝাই যাচ্ছে স্বাক্ষীরা কিছুই জানেন না। বাদী ছাদিকুল ইসলাম মিথ্যা সাক্ষী সাজিয়েছেন। তারা সবাই নিজেরাই নিজেদের নিকটআত্মীয়। 

উক্ত মামলার স্বাক্ষী মোঃ কামরুল হাসান বাদীর শ্বশুর মোঃ এজাজুল হক বাদীর জন্মদাতা পিতা, মোঃ ফজলুর রহমান বাদীর চাচা শ্বশুর, মোঃ বাবু হাসান বাদীর চাচা, মোঃ সামিউল বাদীর মামা, মোঃ হাসিনুর বাদীর চাচা শ্বশুর। সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে আরো উঠে আসে উক্ত ঘটনা কোথায় ঠিক ঘটেছে স্বাক্ষীরা তা বলতে পারেননি। যা সাংবাদিকের রেকর্ডকৃত কলরেকর্ডে চাঞ্চল্যেকর তথ্য উঠে এসেছে। 

সাংবাদিকরা বাদী এবং স্বাক্ষীদের প্রশ্ন করে, আপনার চাকুরি হয়নি চেক-স্ট্যাম্প আপনাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে। আপনারা কি আপনাদের স্থানীয় প্রতিনিধি যেমন চেয়ারম্যান/ মেম্বারদের/ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিকে কেন লিখিত অভিযোগ করেননি, চিরিরবন্দর থানা, দিনাজপুরে কেন লিখিত অভিযোগ বা জিডি করেননি। কেন আপনারা তখন আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি। 

এদিকে বিবাদী মোঃ শাহ আলম কে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমি গত ০৫/০৫/২০২৪ এবং তারিখে নিগোশ্যাবল ইন্সট্রমেন্ট এ্যাক্ট (সংশোধিত ২০০৬) এর ১৩৮ ধারায় গত ১৯/১২/২০২৪ ইং  মোকদ্দমা নং-১২৮৯ সি/২০২৪ তারিখে পাটুল, আমবাড়ী, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর এজাজুল হকের পুত্র মোঃ ছাদিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা দিনাজপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত, সদর, দিনাজপুরে ২০ লক্ষ টাকার জমি কেনা বায়না বাবদ চেক ডিসঅনার মামলা করি। মামলাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য চতুর এবং প্রতারক ছাদিকুল ইসলাম আমার বিরুদ্ধে ১৩৮ ধারায় একটি মিথ্যা মামলা করেন এবং দিনাজপুর সিআইডিকে ম্যানেজ করে নিজের পক্ষে রিপোর্ট করিয়ে নেয়। যা সম্পূর্ণ বে-আইনী। ছাদিকুল ইসলাম গত ১০/১২/২০২৪ একটি ১৩৮ ধারায় ১২২৮/২০২৪ চেক ডিসঅনারের বিরুদ্ধে ৩জনকে মামলার আসামী করে একটি মামলা করেন। 

সাংবাদিকররা ছাদিকুল ইসলামকে প্রশ্ন করাকালে চাকুরির জন্য বাংলাদেশ রেলওয়েতে ওয়েম্যান পদে কবে আবেদন করেছেন? তিনি বলেন গত ১৭ জানুয়ারি’২০২৩ ইং তারিখে। ওয়েম্যানের রেজাল্ট কবে প্রকাশিত হয়। তিনি জানান, ১৭ জুন’২০২৩ এমসিকিউ এবং চূড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশিত হয় ২৮ অক্টোবর-২০২৩ইং তারিখে। আবার প্রশ্ন করা হলে আপনি চাকুরির জন্য আবেদন করেছেন ২০২৩ সালে তাহলে আপনি চেক-স্ট্যাম্প বিবাদীদের দিয়েছেন ২০২৪ সালে। অতঃপর আপনি চেক-স্ট্যাম্পের মামলা করলেন ২০২৪ কেন? তাছাড়া মানুষ চাকুরির আগে টাকা কিংবা চেক স্ট্যাম্প লেনদেন করে। আপনি চাকুরির পরে চেক স্ট্যাম্প দিয়েছেন?  তিনি এই বিষয়ে আর কোন উত্তর দিতে ব্যর্থ হন।  

সিআইডি রিপোর্টে ২০২৪ সালের ১৫ মে রাত আনুমানিক ৮ টায় দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ীতে বিবাদীদের বাকবিত-ার কথা বলা হলেও, রেলওয়ের ডিউটি শিট (গ্যাং নং-৩ কেপি) অনুযায়ী উক্ত সময়ে আজাদ হোসেন কি: মি: ৪২৭/০-৪৩৪/০ সেকশনে অন-ডিউটিতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রধান চারজন সাক্ষীই ছাদিকুল ইসলামের পিতা, শ্বশুর, মামা, চাচা ও ভায়রাসহ তার নিকটাত্মীয়।

সরেজিমনে প্রতিবেদনে জানা গেছে, দিনাজপুর সিআইডি কর্মকর্তা মোঃ ওসমান গনি তিনি অফিসে বসেই সকল তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। কারণ হিসেবে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে দিনাজপুরে প্রধান আসামী আজাদ হোসেনের অফিসে কোন সিআইডি কর্মকর্তা যাননি এবং কোন রেল কর্মকর্তার বক্তব্যও নেননি ও আজাদের চাকুরি পদবি ছিল মেট কিন্তু সিআইডি কর্মকর্তা তাঁকে ওয়েম্যান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

সচেতন মহলের দাবী, স্পর্শকাতর আদালতের সিআর মামলার জালিয়াতি, সিআইডি কর্মকর্তার সরেজমিনে না গিয়ে অফিসে বসেই মনগড়া প্রতিবেদন প্রদানসহ নানাবিধ সরকারি নথিপত্রে অমিল মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে হয়েছে কিনা তা যাচাই এবং সিআইডি কর্মকর্তার অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান ভুক্তভোগীরা ।  



দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: শাহ্ আলম নূর আকাশ (8801715412204)
বার্তা সম্পাদক: মো: নুরুল হুদা দুলাল (8801715803963)
হেড অব নিউজ: আব্দুস সালাম (8801721460008) 
আইন উপদেষ্টা: অ্যাড. সারওয়ার আহমেদ বাবু (8801318071980)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম