ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

অব্যাহতি চান জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে হাতকড়া ও হেলমেট থেকে



অব্যাহতি চান জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে হাতকড়া ও হেলমেট থেকে
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও গায়ে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর)  ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এ আবেদন জানান।

জিয়াউল আহসান বলেন, মনে হয় আমি সবার টার্গেট। আমি ট্রাইব্যুনালের কাছে সুবিচার চাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস মল্লিক। সাক্ষী তার ভাই আলকাছ মল্লিককে হত্যার জন্য জিয়াউল আহসানকে দায়ী করেন এবং তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও সাহিদুর রহমান সাক্ষীকে জেরা করেন। এরপর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

জেরা শেষ হওয়ার পর আদালতের কাছে কথা বলার সুযোগ চান জিয়াউল আহসান। অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, মাননীয় আদালত, সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন প্রশিক্ষণের সময় আমি কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা পেয়েছিলাম। কিন্তু ইদানীং কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনার সময় আমার হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে জ্যাকেট (ভেস্ট) পরানো হয়। আমি এ থেকে অব্যাহতি চাই। তবে মনে হয় আমি সবার টার্গেট। আমি সুবিচার চাই।

এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের মতামত জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, এটি পুরোপুরি জেল কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। যদি তার প্রতি আচরণের কোনো ব্যত্যয় ঘটে বা বেআইনি কিছু করা হয়, তবে আদালত ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে আমাদের মনে হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে এভাবে আনা হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনাল তখন জিয়াউল আহসানকে উদ্দেশ করে বলেন, প্রসিকিউশন বলছে, নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জবাবে জিয়াউল আহসান বলেন, প্রিজনভ্যান থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানার দূরত্ব মাত্র পাঁচ গজ। এ ছাড়া গাড়ি থেকে নামানোর সময় ২০ জন পুলিশ সদস্য থাকেন। সেখানে নিরাপত্তার অভাব থাকার কথা নয়।

জবাবে বিচারক বলেন, পাঁচ গজ নয়, এক গজ থেকেও কেউ চাইলে স্নাইপারে টার্গেট করতে পারেন।

জিয়াউল আহসান বলেন, এখানে টার্গেট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালে অনেক বেশি নিরাপত্তা রয়েছে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক মোহিতুল হক তাকে হাতকড়া ও হেলমেট থেকে অব্যাহতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করার পরামর্শ দেন।

পরে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে আবেদন করব। কিন্তু প্রসিকিউশন যা চায়, এখানে সাধারণত সেটিই হয়।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অসংখ্য অভিযোগের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।

বিষয় : অব্যাহতি চান জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে হাতকড়া ও হেলমেট থেকে

আপনার মতামত লিখুন

দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অব্যাহতি চান জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে হাতকড়া ও হেলমেট থেকে

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও গায়ে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর)  ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এ আবেদন জানান।

জিয়াউল আহসান বলেন, মনে হয় আমি সবার টার্গেট। আমি ট্রাইব্যুনালের কাছে সুবিচার চাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন আব্বাস মল্লিক। সাক্ষী তার ভাই আলকাছ মল্লিককে হত্যার জন্য জিয়াউল আহসানকে দায়ী করেন এবং তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও সাহিদুর রহমান সাক্ষীকে জেরা করেন। এরপর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

জেরা শেষ হওয়ার পর আদালতের কাছে কথা বলার সুযোগ চান জিয়াউল আহসান। অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, মাননীয় আদালত, সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন প্রশিক্ষণের সময় আমি কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা পেয়েছিলাম। কিন্তু ইদানীং কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনার সময় আমার হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে জ্যাকেট (ভেস্ট) পরানো হয়। আমি এ থেকে অব্যাহতি চাই। তবে মনে হয় আমি সবার টার্গেট। আমি সুবিচার চাই।

এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের মতামত জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, এটি পুরোপুরি জেল কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। যদি তার প্রতি আচরণের কোনো ব্যত্যয় ঘটে বা বেআইনি কিছু করা হয়, তবে আদালত ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে আমাদের মনে হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে এভাবে আনা হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনাল তখন জিয়াউল আহসানকে উদ্দেশ করে বলেন, প্রসিকিউশন বলছে, নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জবাবে জিয়াউল আহসান বলেন, প্রিজনভ্যান থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানার দূরত্ব মাত্র পাঁচ গজ। এ ছাড়া গাড়ি থেকে নামানোর সময় ২০ জন পুলিশ সদস্য থাকেন। সেখানে নিরাপত্তার অভাব থাকার কথা নয়।

জবাবে বিচারক বলেন, পাঁচ গজ নয়, এক গজ থেকেও কেউ চাইলে স্নাইপারে টার্গেট করতে পারেন।

জিয়াউল আহসান বলেন, এখানে টার্গেট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালে অনেক বেশি নিরাপত্তা রয়েছে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক মোহিতুল হক তাকে হাতকড়া ও হেলমেট থেকে অব্যাহতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করার পরামর্শ দেন।

পরে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে আবেদন করব। কিন্তু প্রসিকিউশন যা চায়, এখানে সাধারণত সেটিই হয়।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অসংখ্য অভিযোগের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে।


দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর

প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: শাহ্ আলম নূর আকাশ (8801715412204)
বার্তা সম্পাদক: মো: নুরুল হুদা দুলাল (8801715803963)
হেড অব নিউজ: আব্দুস সালাম (8801721460008) 
আইন উপদেষ্টা: অ্যাড. সারওয়ার আহমেদ বাবু (8801318071980)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর ডট কম