রাজধানীর বড় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম’ বা ‘পাগলা ঘণ্টা’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে (সিএমএসডি) ভেন্টিলেটর ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান তিনি। এই অনুষ্ঠানে দেশের ১০টি জেলা সদর হাসপাতালে একটি করে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সরবরাহ করা হয়।মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম ধাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘পাগলা ঘণ্টা’ বা ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম চালু করা হবে।’স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে ‘কোড ব্লু’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি মহাখালী এলাকায় স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’অনুষ্ঠানে ১০টি জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের জন্য একটি করে শিশু ভেন্টিলেটর এবং পাঁচটি করে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর বিতরণ করেন মন্ত্রী। এসব হাসপাতালে শিগগিরই আইসিইউ সেবা কার্যক্রম শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।যেসব সদর হাসপাতালে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে হলো—টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, যশোর, মাদারীপুর, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল। আর ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা হলেও প্রকল্প শেষ হওয়ার পর চুক্তিভিত্তিক জনবল সংকটের কারণে ১০টি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ অকার্যকর হয়ে পড়ে। নতুন উদ্যোগে সেগুলো পুনরায় চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৪২ জেলার ৭৪টি সরকারি হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৩৭২টি আইসিইউ বেড রয়েছে। তবে এখনো ২২ জেলায় কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই। এর মধ্যে ঢাকায় ৫৫ শতাংশ আইসিইউ বেড কেন্দ্রীভূত।সিএমএসডির পরিচালক মোহাম্মদ শফিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন—প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক ডা. তউহীদ আহমদ। আরও উপস্থিত ছিলেন–স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমীসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।