দিনাজপুর টোয়েন্টিফোর
পররাষ্ট্রনীতিতে কোন দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

পররাষ্ট্রনীতিতে কোন দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের দেড় মাস অতিক্রম করতে চলেছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের এক আন্তর্জাতিক জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে সরকার, যেই যুদ্ধ শুধু বাংলাদেশকে নয়, পুরো বিশ্বকেই টালমাটাল করে দিয়েছে। এক মাসের বেশি সময় আগে শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে দেশের শ্রমিকদের সুরক্ষা, সবই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, নতুন সরকার কাকে প্রাধান্য দেবে: ভারত, চীন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে?যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও জ্বালানী তেলে নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। এরমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর সফর করছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। যার মূল লক্ষ্য ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শ্রমিকদের খোঁজ-খবর নেওয়া। এছাড়া আগামী সপ্তাহে ভারত সফরের কথা আছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।এর আগে বাংলাদেশ সফর করে যান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুর। সবমিলিয়ে পররাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যস্ত এবং একইসঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে কিছুটা জটিল সময় পার করছে বাংলাদেশ।পররাষ্ট্রনীতিতে কোনদিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ?আওয়ামী লীগের ষোলো বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ পরিচিত ছিলো মূলত ভারত ঘনিষ্ট দেশ হিসেবে। পরে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব দ্রুতই নিচে নেমে যায়। তবে এই একইসময়ে আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি হয় বাংলাদেশের।এখন যখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় তখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, নতুন এই সরকার পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কোন দিকে ঝুঁকছে? ভারত, চীন নাকি যুক্তরাষ্ট্র? পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ অবশ্য বলছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্দিষ্ট কোন দেশকে ঘিরে হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন সরকারের প্রায়োরিটি হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ কোথায় সেটা নিয়ে। আমাদের নীতি হচ্ছে, সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা। আমাদের দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্কগুলোর প্রতিটিই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের স্বার্থকে সুরক্ষা করে। অর্থাৎ বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিয়েই আমাদের ফরেন পলিসি হবে, নির্দিষ্ট কোনো দেশকে ঘিরে নয়।’ইরান যুদ্ধকে ঘিরে মার্কিন ঘেঁষা নীতি নিচ্ছে বাংলাদেশ?বাংলাদেশ তার বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে সব দেশের সঙ্গে যে সুসম্পর্কের কথা বলছে সেটার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে হচ্ছে, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ তার প্রথম বিবৃতিতেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার সমালোচনা করেছে। বিপরীতে এড়িয়ে গেছে, ইরানে মার্কিন হামলাকে।বিবৃতিতে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা’ ঘটেছে দাবি করে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।সমালোচনার মুখে অবশ্য বাংলাদেশ নতুন করে বিবৃতি দেয়। তবে এই বিবৃতি নিয়েও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে খোদ ইরানের তরফ থেকে।গত বুধবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি প্রকাশ্যেই বলেছেন, ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের বিবৃতি      আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল’। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইরানে ‘আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে নিন্দা করবে’ এমন প্রত্যাশা ছিলো তার দেশের।একদিকে ইরান নিয়ে সমালোচিত বিবৃতি অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে করা মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিকে সমর্থন -দুটো মিলিয়েই বাংলাদেশে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে কিনা।সরকার অবশ্য এমন অভিযোগ নাকচ করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এর আগে একাধিক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই কাজ করছে।তবে নানা প্রশ্ন এবং সমালোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর অবশ্য বলছেন, বাংলাদেশের বিদেশ নীতি নির্দিষ্ট কোন দেশের দিকে ঝুঁকে গেছে এখনই সেই সিদ্ধান্ত টানার সময় আসেনি।তিনি বলেন, ‘প্রথম স্টেটমেন্টে আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যাপারে বেশি মনোযোগী থেকেছি। ইরান আক্রমণ হয়েছে এ ব্যাপারে কিছু বলিনি। কিন্তু পরদিনই সরকারের দিক থেকে একটা বিবৃতি দিয়ে সেখানে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটাকে তারা ব্যালেন্স করেছেন। সুতরাং যেহেতু এটা নতুন সরকার, আমি বোঝার জন্য তাদেরকে আরেকটু গ্রেস পিরিয়ড দেবো আরকি।’যুক্তরাষ্ট্র-চীন-ভারতের পাল্টাপাল্টি স্বার্থে জটিলতাবাংলাদেশে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অতীতে ভারত, চীন কিংবা রাশিয়ার মতো দেশগুলোকে ঘিরেও নানা টানাপোড়েন দেখা গেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দেশগুলোর ভূমিকা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে।এক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার কথা বলা হলেও অনেক সময় দেখা যায়, এক দেশের প্রকল্প অন্য দেশের ক্ষোভের কারণ। যেমন ভারত-চীনের ক্ষেত্রে তিস্তা প্রকল্প।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, তিস্তা প্রকল্প হবে চীন-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ‘লিটমাস টেস্ট’। এ ধরনের ইস্যু যেখানে দুটি দেশের পাল্টাপাল্টি স্বার্থ আছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ নয়।ফলে দেখা গেছে, তিস্তা প্রকল্প কয়েক বছর ধরে আলোচনা চললেও বাস্তবায়ন ঝুলে আছে। আওয়ামী লীগের মতোই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।ড. লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে যদি সকল দলের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা যায়, তাহলে সেটা জাতীয় স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।‘এখানে স্বার্থগুলো আসলে পরস্পর সাংঘর্ষিক হয়ে যায় অনেকসময়। কিন্তু যদি কোনো একটা ইস্যুতে বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে সেটা নিয়ে সমালোচনা কম হবে। সেটা না করলে এই সন্দেহ তৈরি হবে যে, প্রকল্পটা হয়তো নির্দিষ্ট কোন একটা দেশকে কোনো একটা কারণে দেয়া হয়েছে। এটা একটা দলভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি হয়ে যায়। যে কারণে একবার আপনি প্রো-চায়না হচ্ছেন, আরেকবার প্রো-ইন্ডিয়া হচ্ছেন, আরেকবার প্রো-আমেরিকা হচ্ছে। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’-বলেন ড. লাইলুফার ইয়াসমিন।বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারতের কাছে জ্বালানি সংকট মেটাতে অতিরিক্ত ডিজেলের চাহিদা দিয়েছে। পাশাপাশি আমেরিকার সঙ্গেও আছে উষ্ণ সম্পর্ক। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া তারেক রহমানকে লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠিতে এটা স্পষ্ট যে, আমেরিকা এই সম্পর্ককে যুক্ত করতে চায় তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সঙ্গে। কারণ চিঠিতে স্পষ্ট করেই ইন্দো-প্যাসিফিকের কথা বলা হয়েছে।কিন্তু এই ইস্যুতে আবার উদ্বেগ আছে চীনের। ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখতে গিয়ে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে বাংলাদেশকে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীনের বিনিয়োগ এবং অর্থের দরকার আছে।জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর বলেন, অতীতে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ায় এর নানা মাশুল দিতে হয়েছে। এমন ভুলের পুনরাবৃ্ত্তি করা যাবে না।তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা দেখতে গেলে আমাদের ভারতের সঙ্গে কাজ করতে হবে, ওদেরকেও আমাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত আছে। দ্বিতীয় বিবেচনা হচ্ছে, বাংলাদেশ প্রায় পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার রফতানি করে। যেটা যায় ইউরোপ-আমেরিকায়। কিন্তু এই রফতানির কাঁচামাল আসে চীন-ভারত থেকে। সুতরাং এখানে স্বার্থগুলো একটা চেইনের মতো। এখানে কাউকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে গ্রহণ করবো সেই সুযোগ নেই। এখানে কোন একটা পক্ষের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক বা পক্ষপাতিত্ব করতে গেলেই জটিলতা তৈরি হবে।’কে নাখোশ হবে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়কিন্তু বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক এমন স্বার্থের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতি আসলে কী হবে? এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য যেটা ভালো হবে, সেটাই করা হবে। এক্ষেত্রে ‘কে নাখোশ হবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’তিনি বলেন, ‘দেখেন ভারতের সঙ্গে আমাদের তিস্তা নিয়ে ইস্যু আছে, পানি নিয়ে ইস্যু আছে, বাণিজ্য ঘাটতি, সীমান্ত ইস্যু আছে। এইসবগুলো ক্ষেত্রেই আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান হবে। একইভাবে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল দেশের সঙ্গে একই নীতিতে সম্পর্কটা হবে। কে কোনটাতে নাখোশ হবে সেটার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের মানুষ কোনটাতে ভালো থাকবে। বাংলাদেশের কোনটা ভালো সেটা নিশ্চিত করার পরে কোন দেশ কোনটাতে আগ্রহী আমরা সেটা তখন দেখবো। আমাদের আগে নিশ্চিত করত হবে দেশের মানুষ কী চায়।’বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি স্পষ্ট করছে। যেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, প্রভাবশালী দেশগুলোও একইভাবে নিজেদের স্বার্থ দেখতে চায় এবং এর জন্য নানা চাপও তৈরি করে। সেই চাপ সামলানো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: বিবিসি বাংলা।
৪ ঘন্টা আগে

দিনাজপুরে শহীদ মিনারে ডিসি আগে ফুল দেওয়ায় এমপির ক্ষোভ, বললেন ‘মিটিংয়ে এর জবাব নেবো’

দিনাজপুরে শহীদ মিনারে ডিসি আগে ফুল দেওয়ায় এমপির ক্ষোভ, বললেন ‘মিটিংয়ে এর জবাব নেবো’

দিনাজপুরে বাসের ধাক্কায় শিশু শিক্ষার্থী নিহত

দিনাজপুরে বাসের ধাক্কায় শিশু শিক্ষার্থী নিহত

কে হচ্ছেন সরকার দলীয় চিফ হুইপ, আলোচনায় নোয়াখালীর ২ সিনিয়র নেতা

কে হচ্ছেন সরকার দলীয় চিফ হুইপ, আলোচনায় নোয়াখালীর ২ সিনিয়র নেতা

ঈদে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ

ঈদে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহতের দাবি

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহতের দাবি

দিনাজপুরে লিচুর মুকুলে হাসছে চাষির স্বপ্ন

দিনাজপুরে লিচুর মুকুলে হাসছে চাষির স্বপ্ন

দিনাজপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি রেজিস্ট্রি চেষ্টার অভিযোগ: কাচারী চত্বরে হাতাহাতি আহত ৭

দিনাজপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি রেজিস্ট্রি চেষ্টার অভিযোগ: কাচারী চত্বরে হাতাহাতি আহত ৭

ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক: বাজার স্থিতিশীলতা, নাকি দামের ওপর নতুন চাপ

ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক: বাজার স্থিতিশীলতা, নাকি দামের ওপর নতুন চাপ

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কেন রাষ্ট্রপতিকে রক্ষায় অনড় ছিল বিএনপি?

কেন রাষ্ট্রপতিকে রক্ষায় অনড় ছিল বিএনপি?

কোন ভিডিও নেই !

টাইব্রেকারে ভারতকে উড়িয়ে সাফের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে ৪-৩ ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে টানা আধিপত্য ধরে রাখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।খেলার শুরুতেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নামে ভারত। ম্যাচের প্রথম কয়েক মিনিটেই তারা একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে, তবে সেটি কাজে লাগাতে পারেনি। শুরুর এই চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দুই প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ সাজিয়ে ভারতের রক্ষণভাগকে বেশ চাপে রাখে তারা।বাংলাদেশের অধিনায়ক ও মিডফিল্ডাররা মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলার গতি নিজেদের দিকে টেনে আনেন। ফ্রি-কিক ও সেটপিস থেকেও গোলের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি।প্রথমার্ধজুড়ে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের আক্রমণগুলো ছিল তুলনামূলক বেশি সংগঠিত, তবে ভারতের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ভারতও কয়েকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। বাংলাদেশের গোলরক্ষকও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সজাগ থেকে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।প্রথমার্ধের শেষদিকে বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং দূরপাল্লার শট ও ক্রস থেকে গোলের চেষ্টা করে, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় স্কোরলাইন অপরিবর্তিতই থাকে। বিরতির পর ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। দুই দলই ঝুঁকি কম নিয়ে খেলতে শুরু করে। বাংলাদেশ রক্ষণকে শক্ত করে রেখে সুযোগ বুঝে আক্রমণে যাওয়ার কৌশল নেয়। ভারত এই সময়ে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিং দুর্বলতায় ভুগতে থাকে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক সমন্বিতভাবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়।ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে আক্রমণের ধার বাড়াতে কোচ মার্ক বদলি খেলোয়াড় নামান। নতুন খেলোয়াড়দের মাধ্যমে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত গোল আসেনি। তবে ম্যাচের শেষ দশ মিনিটে আবারও উত্তেজনা বাড়ে। ভারত একটি সুবর্ণ সুযোগ পেলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়, কিন্তু দুই দলের কেউই শেষ মুহূর্তে জালের দেখা পায়নি। রেফারি যোগ করা সময় দিলেও গোলের অচলাবস্থা কাটেনি। ফলে ম্যাচটি ০-০ অবস্থায় টাইব্রেকারে গড়ায়।টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াইয়ে বাংলাদেশ স্থিরতা দেখায়। গুরুত্বপূর্ণ শটে সফল হয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

টাইব্রেকারে ভারতকে উড়িয়ে সাফের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম
বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘কঠিন’ গ্রুপে পড়েছে দাবি দুই দেশের কোচের। আপনিও কী এমনটি মনে করেন?

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ‘কঠিন’ গ্রুপে পড়েছে দাবি দুই দেশের কোচের। আপনিও কী এমনটি মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন