এনআইডি ফরমে বড় পরিবর্তন, যুক্ত হচ্ছে দাওরা-এমবিবিএস ডিগ্রিও
জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধন ফরমের শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার এতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার ডিগ্রিও যুক্ত করা যাবে। এমনকি মাস্টার্সের সমমান পাওয়া কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসও থাকছে এতে। পাশাপাশি এমবিবিএসসহ আরও কিছু নতুন ডিগ্রি যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধনের সময় আগে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর কিংবা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখা হতো। আলাদা করে কোনো ডিগ্রি বা শিক্ষাগত যোগ্যতার নাম উল্লেখ করা যেত না। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে মাদরাসা থেকে অর্জিত ডিগ্রির নাম উল্লেখ করা যাবে। যেমন—দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল ও দাওরায়ে হাদিস। অন্যদিকে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং), এমবিবিএস, এমএস/এমডি, এমফিল ও পিএইচডির মতো ডিগ্রিও এনআইডির তথ্যে যুক্ত করা যাবে।শিক্ষাগত যোগ্যতার ফিল্ডে এমন পরিবর্তন কেন আনা হচ্ছে—জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দেশ থেকে অনেকে বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশে ভিসার আবেদন করেন। তখন দেখা যায়, আবেদনে একটি নির্দিষ্ট ডিগ্রির নাম লেখা থাকলেও এনআইডিতে শুধু মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর উল্লেখ থাকে। এতে অনেক সময় নাগরিকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ডিগ্রির নাম থাকলে উন্নত বিশ্বে আলাদা মর্যাদাও পাওয়া যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা প্রস্তাবনা কমিশনে পাঠিয়েছি। অনুমোদন হয়ে এলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, একজন মানুষ দীর্ঘদিন পড়াশোনা করে একটি ডিগ্রি অর্জন করেন, কিন্তু সেই ডিগ্রির নাম সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের ডাটাবেজে উল্লেখ থাকত না। এখন আমরা তাদের পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চতর শিক্ষার ডিগ্রিগুলো যুক্ত করার পরিকল্পনা করছি।ডাক্তারদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন সরকারি চিকিৎসকের পেশা হিসেবে আমাদের ডাটাবেজে সরকারি চাকরিজীবী উল্লেখ থাকে। তিনি যে চিকিৎসক, সেটি বোঝার সুযোগ থাকে না। এখন যদি তার শিক্ষাগত যোগ্যতায় এমবিবিএস কিংবা এফসিপিএস যুক্ত করা হয়, তাহলে সহজেই বোঝা যাবে তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। এছাড়া মাদরাসা থেকে যারা বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করেন, তারাও সুনির্দিষ্টভাবে নিজেদের ডিগ্রির নাম এনআইডি নিবন্ধন ফরমে উল্লেখ করতে পারবেন। তবে এসব তথ্য এনআইডির তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত থাকবে, কার্ডে প্রিন্ট হবে না।মাদরাসা ও উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি সুনির্দিষ্ট করে এনআইডিতে যুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটির কোনো খারাপ দিক আমি দেখছি না। এটি অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের একটি ভালো উদ্যোগ।অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষার ডিগ্রি সুনির্দিষ্ট করে এনআইডির তথ্যে যুক্ত করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক-এর প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। যে ব্যক্তি যে ধারায় পড়াশোনা করেছেন, সেই ডিগ্রির তথ্য যদি এনআইডিতে থাকে, তাহলে তা নাগরিকদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
৫৫ মিনিট আগে