বাহরাইনের রাজধানী মানায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটিতে দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করার পর ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাহরাইনে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস বলেছে, বাহরাইনের বিরুদ্ধে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল (রোববার) বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ থাকবে।বিবৃতিতে বলা হয়, রোববারের জন্য নির্ধারিত সব নিয়মিত ও জরুরি কনস্যুলার সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়েছে। দূতাবাস স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।এদিকে, প্রথম দফায় বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর আবারও দেশটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে দ্বিতীয় দফায় ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে বাহরাইন।বাহরাইন ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন সৈন্যদের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় ব্যবহৃত বেশিরভাগ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশগুলো। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অন্তত একজনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। এর ফলে ওই অঞ্চলে নতুন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এটি আমেরিকার যুদ্ধ নয়। অন্যদিকে, কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোনালাপে ‘‘তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা বন্ধের’’ আহ্বান জানিয়েছেন।সূত্র: এএফপি, আল জাজিরা।