সবুজ সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় নবম পে স্কেল, কার্যকর হবে যেভাবে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম বেতন কাঠামো চালুর লক্ষ্যে নীরবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেলের প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ বেতন কাঠামো কার্যকর করা গেলে তা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হবে। তবে নতুন স্কেলের আওতায় সব ধরনের আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি পেতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে সংশ্লিষ্টদের।সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বরাদ্দ নিয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও সময়সূচিতে কিছু কৌশলগত সমন্বয় আনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে সরকার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একযোগে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার। শুরুতে মূল বেতনে আংশিক বৃদ্ধি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মোট প্রস্তাবিত কাঠামোর তুলনায় সীমিত হতে পারে। তবে দ্রব্যমূল্যের বর্তমান ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এ উদ্যোগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ স্বস্তি বয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বেতন সুবিধা ও ভাতা সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।পে-কমিশনের সুপারিশে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ অবসরভোগীর আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড়ের চাপ সামাল দিতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডারের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বা বিশেষায়িত বেতন কাঠামো প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।আসন্ন জাতীয় বাজেটের আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’-এর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ ও বাস্তবায়নের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি। সংগঠনটির নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও এখনো নবম পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। ফলে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া ও চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা।প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ (গ্রেড অনুযায়ী তালিকা)নিচে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো, যা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে:গ্রেড বেতন স্কেল (টাকা)০১ ১,৬০,০০০/- টাকা (নির্ধারিত)০২ ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা০৩ ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা০৪ ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা০৫ ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা০৬ ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা০৭ ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা০৮ ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ টাকা০৯ ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ টাকা১০ ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা১১ ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা১২ ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ টাকা১৩ ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ টাকা১৪ ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা১৫ ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ টাকা১৬ ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা১৭ ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা১৮ ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা১৯ ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা২০ ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকাবি:দ্র: এটি একটি প্রস্তাবিত তালিকা মাত্র। সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হলে সেটিই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
১৩ ঘন্টা আগে