ভিন্ন সাজে জাতীয় ঈদগাহ, একত্রে নামাজ পড়বেন ৪০ হাজার মুসল্লি
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শুক্রবার, নয়তো পরশু শনিবার অনুষ্ঠিত হবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্ম উৎসব ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহের মাঠ উৎসবমুখর সাজে মুসল্লিদের জন্য নতুন রূপ ধারণ করেছে। এবার ঈদগাহকে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে, যেন আগত মুসল্লিরা এক স্বতন্ত্র, আনন্দমুখর এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন। সকাল সাড়ে ৮টায় দেশের দুই প্রধান ভিভিআইপি—রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—একসঙ্গে প্রধান জামাতে নামাজ আদায় করবেন। এটি শুধু প্রধান জামাতের জন্য নয়, বরং দেশের দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম প্রধান ঈদ জামাত হওয়ায় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এবারের ঈদগাহ ময়দান স্বতন্ত্র কারণে ঐতিহাসিক। এখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। এটি দীর্ঘদিন পর দেশের মুসলিম জনগণের জন্য একটি অনন্য মুহূর্ত। সকালেই জাতীয় ঈদগাহে উপস্থিত হন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। তারা পুরো ময়দান পরিদর্শন করে নিশ্চিত হন যে মুসল্লিরা আরামে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মাটির উপর বিছানো কার্পেট, ত্রিপল ঢেকে দেওয়া পুরো ময়দান, পর্যাপ্ত ফ্যান, লাইনিং ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ব্যর্থ হলে বিকল্প ব্যবস্থা—সবকিছুই প্রস্তুত।নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আলাদা প্রবেশ পথ, আলাদা লাইনিং এবং নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে নারী মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন। মুসল্লিদের জন্য অজুর সুবিধায় রয়েছে সারি সারি পানির ট্যাপ এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা।নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র্যাব, এসএসএফ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবেন। প্রবেশ পথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। ঈদগাহের চারপাশে পিকেট, তল্লাশি এবং সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। গোয়েন্দা সংস্থা, ফায়ার ব্রিগেড এবং ইমার্জেন্সি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। নারীদের জন্য পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রবেশপথ রয়েছে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে তল্লাশিতে সহায়তা করতে হবে। কোনো ব্যাগ, ধারালো বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে আনবেন না। জামাত শেষে তাড়াহুড়ো না করে শান্তভাবে বের হবেন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানাবেন। প্রয়োজনে ৯৯৯ বা ম্যাসেজ টু কমিশনারে (০১৩২০-০১০১০১০, ০১৩২০-০২০২০২০) ফোন করতে পারেন।ঈদগাহের প্রধান ফটকে নান্দনিকভাবে সাজানো তোরণে লেখা রয়েছে, ‘ওহ মন রমজানে, ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। ঈদ মোবারক।’ পুরো ময়দানকে ত্রিপল ও কার্পেট দিয়ে ঢাকা হয়েছে। পর্যাপ্ত ফ্যান এবং লাইনের ব্যবস্থা আছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা সক্রিয় হবে। ঈদগাহ ময়দানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, পুলিশ ও র্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ফায়ার ব্রিগেডের প্রস্তুত টিম এবং ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। নিরাপত্তার জন্য প্রক্রিয়াগুলো সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। মুসল্লিদের প্রতিটি পদক্ষেপ মনিটরিং করা হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, আলাদা লাইনিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঈদগাহে ৩৫–৪০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এছাড়া ঢাকা মহানগরের অন্যান্য ১২০টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নগরীর প্রধান পয়েন্টে ডাইভারশন রাখা হয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে গণপূর্ত ভবন, আইইবি, জিরোপয়েন্ট, ইউবিএল ক্রসিং এবং মৎস্যভবন ক্রসিং এলাকায়।সব মিলিয়ে এবারের ঈদগাহ আয়োজন সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং আনন্দময়। মুসল্লিরা শান্তভাবে নামাজ আদায় করতে পারবে, দুই ভিভিআইপি’র উপস্থিতি এই ঈদকে করবে বিশেষ, স্মরণীয় এবং ইতিহাসে রাখার মতো।
১ ঘন্টা আগে