জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত 'সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬' সংশোধনের লক্ষ্যে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সংশোধনীতে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ড সম্পর্কিত ধারাটি পুরোপুরি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।শনিবার (২৭ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিবেদন সংসদে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আইনের ওভারল্যাপ এড়াতেই এই উদ্যোগসংসদে বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসকে নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং অপরাধমুক্ত রাখতে মূলত 'সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই আইনের ২০ নম্বর ধারায় সাইবার স্পেসে বা অনলাইনে জুয়া খেলা, বেটিং পরিচালনা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধ ও দণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছিল।তবে আইনি জটিলতা এবং একই অপরাধের জন্য একাধিক আইনের ওভারল্যাপ (দ্বৈততা) এড়াতে এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই জুয়া এবং বেটিং সংক্রান্ত অপরাধ কঠোরভাবে প্রতিরোধ ও দমন করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একক ও ডেডিকেটেড আইন হিসেবে 'জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬' বিল আকারে সংসদে এনেছে।কেন এই ধারা বিলোপ?সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে, একই অপরাধের বিচার যদি দুটি ভিন্ন আইনে (সাইবার আইন এবং জুয়া প্রতিরোধ আইন) সাজার বিধান রাখে, তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন আইনে অনলাইন জুয়াকেও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে, তাই সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে জুয়া সংক্রান্ত ২০ নম্বর ধারাটি বিলুপ্ত করার যৌক্তিক প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে সাইবার সুরক্ষা আইনটি মূলত হ্যাকিং, প্রোপাগান্ডা, ডেটা চুরি এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধ দমনে আরও সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করতে পারবে।পরবর্তী ধাপ: আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি পর্যালোচনা করে তাদের সুপারিশসহ প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করবে। এরপর বিলটি পাসের জন্য সংসদে চূড়ান্ত ভোটে তোলা হবে।